এলজিইডির প্রকৌশলীদের জন্য পৃথক বিসিএস ক্যাডার গঠনের উদ্যোগ
এলজিইডির প্রকৌশলীদের পৃথক বিসিএস ক্যাডার গঠনের উদ্যোগ
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে বিসিএসের পেশাগত ক্যাডারের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে এলজিইডির প্রকৌশলীদের নিয়ে পৃথক ‘বিসিএস স্থানীয় সরকার প্রকৌশল ক্যাডার’ গঠনের প্রস্তাব নিয়ে রোববার বিকেলে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করা হলে এলজিইডির প্রকৌশলীদের জন্য পৃথক ক্যাডার কাঠামো তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বিধি মোস্তফা জামানের সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে। সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, অর্থ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সরকারি কর্ম কমিশন এবং আইন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে এলজিইডিকে ক্যাডারভুক্ত করার যৌক্তিকতা, বিদ্যমান জনবল কাঠামো, প্রশাসনিক বিন্যাস এবং সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাবসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হবে।
প্রায় দুই দশক ধরে এলজিইডির প্রকৌশলীদের ক্যাডারভুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় থাকলেও এতদিন তা বাস্তবায়িত হয়নি। এলজিইডি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালে অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের জন্য পৃথক বিসিএস প্রকৌশল ক্যাডার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সে সময় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রমও শুরু হয়। ২০০৬ সালে অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছিল বলে এলজিইডি সূত্র জানিয়েছে। পরে প্রস্তাবটি বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে যায়নি।
সম্প্রতি দীর্ঘদিনের এই প্রস্তাবটি আবার সামনে আসে। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন গত ১৯ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগে পৃথক ক্যাডার গঠনের প্রস্তাব পাঠান। এরপর স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রস্তাবটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। তারই ধারাবাহিকতায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার আয়োজন করা হয়েছে। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে বেলাল হোসেনের নিয়োগ ও দায়িত্বসংক্রান্ত তথ্যও সরকারি এলজিইডি সূত্রে পাওয়া যায়।
এলজিইডির কর্মকর্তাদের মতে, তাদের প্রকৌশলীদের দায়িত্ব ও কাজের ধরন গণপূর্ত অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের কাজের সঙ্গে অনেকাংশে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীদের জন্য ক্যাডার কাঠামো থাকলেও এলজিইডির প্রকৌশলীরা এখনো পৃথক কোনো বিসিএস ক্যাডারের আওতায় নেই।
এলজিইডির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দেশের গ্রামীণ ও স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নে অধিদপ্তরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গ্রামীণ সড়ক, সেতু, কালভার্ট, হাটবাজারসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার দায়িত্বও পালন করছে সংস্থাটি। তবে নন-ক্যাডার কাঠামোর কারণে দক্ষ ও মেধাবী প্রকৌশলীদের আকৃষ্ট করা এবং দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এলজিইডির কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যাডার কাঠামো না থাকায় নিয়মিত নিয়োগ, পদোন্নতি এবং কর্মকর্তাদের পেশাগত ক্যারিয়ার উন্নয়নেও কিছু কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এসব সীমাবদ্ধতা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও প্রকৌশলীদের পেশাগত বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে অধিদপ্তর।
এলজিইডিতে সহকারী প্রকৌশলী থেকে প্রধান প্রকৌশলী পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৬০০ পদ রয়েছে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পৃথক ক্যাডার গঠন হলে এসব পদকে ক্যাডার কাঠামোর আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ জন্য সরকারের অতিরিক্ত আর্থিক দায় সৃষ্টি হবে কি না, সেটিও আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বিবেচনার বিষয় হতে পারে।
এলজিইডির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বিদ্যমান জনবল কাঠামো ও দায়িত্বের মধ্যেই প্রস্তাবিত ক্যাডার কাঠামো বাস্তবায়ন করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক সংস্থানের প্রয়োজন হবে না বলে অধিদপ্তরটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বরাদ্দ বিবেচনায় নিজেদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ব্যাপকতার বিষয়টিও প্রস্তাবে তুলে ধরা হয়েছে।
তবে এলজিইডিকে পৃথক বিসিএস ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগের পাশাপাশি বর্তমানে সরকারের ক্যাডার কাঠামো নিয়ে বৃহত্তর নীতিগত আলোচনাও রয়েছে। ফলে নতুন একটি ক্যাডার সৃষ্টি করা হবে, নাকি বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যে কোনো ধরনের পুনর্বিন্যাস করা হবে, সেটিও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।
সরকারি পর্যায়ে এখনো এলজিইডির প্রকৌশলীদের জন্য পৃথক বিসিএস ক্যাডার গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। রোববারের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভাটি মূলত প্রস্তাবের যৌক্তিকতা, প্রশাসনিক কাঠামো, জনবল ও আর্থিক প্রভাবসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনার একটি ধাপ। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মতামত এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই প্রস্তাবটির পরবর্তী অগ্রগতি নির্ধারিত হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
