মাইগ্রেনে কেন বেশি ভোগেন নারীরা পুরুষের তুলনায় ?

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
মাইগ্রেনে কেন বেশি ভোগেন নারীরা পুরুষের তুলনায় ?

পুরুষদের তুলনায় নারীদের মাইগ্রেন বেশি হওয়ার পেছনে হরমোনের পরিবর্তনসহ রয়েছে নানা কারণ। জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

মাইগ্রেন নারী-পুরুষ উভয়েরই হতে পারে। তবে পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে এ সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দেখা যায়। আমেরিকান মাইগ্রেন ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, নারীদের মাইগ্রেন হওয়ার হার পুরুষদের প্রায় তিন গুণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো নারীদের শরীরে হরমোনের ওঠানামা।

বিশেষ করে ইস্ট্রোজেন হরমোনের পরিবর্তন মাইগ্রেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। মাসিক চক্রের বিভিন্ন সময়ে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা পরিবর্তিত হয়। মাসিক শুরুর আগে ইস্ট্রোজেন দ্রুত কমে যাওয়াকে অনেক নারীর মাইগ্রেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রিগার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ কারণে মাসিকের ঠিক আগে বা শুরুর প্রথম কয়েক দিনে হওয়া মাইগ্রেনকে ‘মেনস্ট্রুয়াল মাইগ্রেন’ বলা হয়।

বয়ঃসন্ধির পর নারীদের মাইগ্রেন বাড়ে কেন?

শৈশবে ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে মাইগ্রেনের প্রবণতার পার্থক্য তুলনামূলক কম। কিন্তু বয়ঃসন্ধির পর মেয়েদের মধ্যে মাইগ্রেনের হার বাড়তে শুরু করে। এ সময় শরীরে প্রজনন-সংক্রান্ত হরমোনের পরিবর্তন শুরু হওয়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হয়।

মাসিকের সঙ্গে মাইগ্রেনের সম্পর্ক

অনেক নারীর ক্ষেত্রে মাসিকের সময় মাইগ্রেনের ব্যথা অন্য সময়ের তুলনায় বেশি তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। NHS-এর তথ্য অনুযায়ী, মাসিকের প্রায় দুই দিন আগে থেকে শুরু করে মাসিক শুরুর প্রথম তিন দিনের মধ্যে এ ধরনের মাইগ্রেন দেখা দিতে পারে।

তবে শুধু হরমোনই একমাত্র কারণ নয়। মাইগ্রেনের পেছনে বংশগত প্রবণতা, মানসিক চাপ, ঘুমের অনিয়ম, খাবার বাদ দেওয়া, পানিশূন্যতা, অতিরিক্ত ক্যাফেইনসহ বিভিন্ন ট্রিগার ভূমিকা রাখতে পারে।

গর্ভাবস্থা ও মেনোপজে কী হয়?

হরমোনের পরিবর্তনের কারণে নারীর জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মাইগ্রেনের ধরন ও তীব্রতা পরিবর্তিত হতে পারে। অনেক নারীর ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় মাইগ্রেনের আক্রমণ কমে যায়। আবার মেনোপজের পরও অনেকের মাইগ্রেনের প্রকোপ কমতে পারে। তবে মেনোপজের আগের পরিবর্তনশীল সময়টিতে কারও কারও মাইগ্রেন সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে।

মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে কী করবেন?

মাইগ্রেনের নির্দিষ্ট ট্রিগার ব্যক্তি ভেদে আলাদা হতে পারে। তাই কখন ব্যথা শুরু হচ্ছে, তার আগে কী খেয়েছেন, কতক্ষণ ঘুমিয়েছেন, মাসিকের কোন পর্যায়ে ছিলেন এবং মানসিক চাপ কেমন ছিল—এসব লিখে রাখলে নিজের ট্রিগার শনাক্ত করা সহজ হতে পারে।

নিয়মিত খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখাও মাইগ্রেন ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হতে পারে।

মাইগ্রেন বারবার হলে, ব্যথা আগের তুলনায় তীব্র হলে বা নিয়মিত মাসিকের আগে-পরে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আর হঠাৎ জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথাব্যথা, শরীরের এক পাশে দুর্বলতা বা অসাড়তা, কথা বলতে সমস্যা, খিঁচুনি বা দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো লক্ষণ থাকলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে – ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page