বেদানার বীজ খাবেন নাকি ফেলবেন? জেনে নিন সঠিক নিয়ম
বেদানার দানা খাওয়ার সময় বীজ ফেলে দেবেন নাকি চিবিয়ে খাবেন? জেনে নিন বেদানার বীজের পুষ্টিগুণ ও খাওয়ার সঠিক নিয়ম।
টকটকে লাল রঙের রসালো বেদানা স্বাদ ও পুষ্টিগুণের কারণে অনেকেরই পছন্দের ফল। তবে বেদানা খাওয়ার সময় এর ভেতরের ছোট শক্ত বীজ নিয়ে অনেকের মধ্যে দ্বিধা থাকে। কেউ বীজ ফেলে দেন, কেউ আবার চিবিয়ে খান। পুষ্টির দিক থেকে বেদানার দানার সঙ্গে বীজও খাওয়া যায়। তবে খাওয়ার ধরন ও পরিমাণের দিকে নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
বেদানার দানায় শুধু রস নয়, বীজেও রয়েছে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। এতে খাদ্যআঁশ, ভিটামিন-ই, ম্যাগনেসিয়াম এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টজাতীয় উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে। বীজে থাকা কিছু ফ্যাটি অ্যাসিড ও পলিফেনল নিয়েও গবেষণা হয়েছে। এসব উপাদান শরীরের সামগ্রিক পুষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
বেদানার বীজে থাকা পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটও পুষ্টির একটি অংশ। স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে এ ধরনের অসম্পৃক্ত চর্বি গ্রহণ হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে শুধু বেদানার বীজ খেলেই কোলেস্টেরল কমে যাবে বা হৃদ্রোগ প্রতিরোধ হবে—এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার সুযোগ নেই। সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনই স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বেদানার বীজ খাওয়ার ক্ষেত্রে অনেকের প্রশ্ন থাকে, আস্ত বীজ গিলে ফেলা যাবে কি না। বীজ ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া তুলনামূলকভাবে উপযোগী, কারণ এতে খাবারের অংশটি ভেঙে যায় এবং খাদ্যআঁশসহ বিভিন্ন উপাদান গ্রহণ করা সহজ হয়। তবে বেদানার বীজ নিয়ে এমন কোনো সাধারণ বৈজ্ঞানিক নিয়ম নেই যে প্রতিটি বীজ অবশ্যই চিবিয়ে খেতেই হবে বা আস্ত গিলে ফেললে সবার পরিপাকতন্ত্রে সমস্যা হবে। যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তাদের ব্যক্তিগত সহনশীলতার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
বেদানার দানা সালাদ, টকদই বা অন্যান্য খাবারের সঙ্গে মিশিয়েও খাওয়া যায়। এতে খাবারের স্বাদ ও বৈচিত্র্য বাড়ে। তবে যেকোনো খাবারের মতো বেদানাও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া ভালো। একসঙ্গে অতিরিক্ত খেলে কারও কারও পেট ফাঁপা, অস্বস্তি বা হজমের সমস্যা হতে পারে।
বেদানা কেনার সময়ও কয়েকটি বিষয় খেয়াল করা যায়। সাধারণত পাকা বেদানার খোসায় উজ্জ্বল ও গাঢ় রং দেখা যায়। একই আকারের দুটি ফলের মধ্যে তুলনামূলক ভারী ফলটি বেছে নিলে সেটিতে রস বেশি থাকার সম্ভাবনা থাকে। তবে শুধু খোসার রং দেখেই ফলের মিষ্টতা নিশ্চিত করা যায় না।
একেবারে নিখুঁত গোল ও মসৃণ ফলের বদলে কিছুটা কোণাকৃতি বা চ্যাপ্টা ধরনের বেদানা অনেক সময় বেশি পাকা হতে পারে। ফলের খোসা শক্ত ও টানটান থাকা এবং দৃশ্যমান পচন বা নরম দাগ না থাকাও গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে বেদানার বীজ ফেলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বেদানার দানা ও বীজ একসঙ্গে খাওয়া যায় এবং এতে খাদ্যআঁশসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। তবে বেদানাকে কোনো রোগের চিকিৎসা বা নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যসমস্যার সমাধান হিসেবে না দেখে সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে খাওয়াই ভালো।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে – ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
