ভুল সিদ্ধান্তের মাশুল হতে পারে বিশাল, ডি জারবিকে নিয়ে চাপে টটেনহ্যাম
জয়ের দেখা নেই, ডি জারবির অধীনে কঠিন সময় পার করছে টটেনহ্যাম
রবার্তো ডি জারবির অধীনে নতুন মৌসুমের শুরুটা টটেনহ্যামের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। প্রিমিয়ার লিগে পাঁচ ম্যাচ খেলে এখনো জয়ের দেখা পায়নি উত্তর লন্ডনের ক্লাবটি। পাঁচ ম্যাচে টটেনহ্যামের সংগ্রহ মাত্র দুই পয়েন্ট, যেখানে রয়েছে দুইটি ড্র ও তিনটি হার। সর্বশেষ ম্যাচে অ্যাস্টন ভিলার কাছে ঘরের মাঠে ৩–২ গোলে হারের পর টেবিলের ১৮তম অবস্থানে নেমে গেছে স্পার্স। প্রথম চার ম্যাচে গোল করতে না পারার পর ভিলার বিপক্ষে দুইবার জাল খুঁজে পেলেও সেটি দলকে পয়েন্ট এনে দিতে পারেনি।
মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই টটেনহ্যাম বড় ধাক্কা খায় ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে। অ্যাওয়ে ম্যাচে ৩–০ গোলে হেরে শুরু হয় ডি জারবির লিগ অভিযান। এরপর ঘরের মাঠে নিউক্যাসলের বিপক্ষে ২–০ গোলের হার পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে। টানা দুই পরাজয়ের পর টটেনহ্যাম তৃতীয় ম্যাচে নটিংহ্যাম ফরেস্টের মাঠে গোলশূন্য ড্র করে প্রথম পয়েন্ট পায়। ম্যাচটিতে ডিফেন্সিভ দিক থেকে দলটি নিজেদের সামলাতে পারলেও আক্রমণভাগে কার্যকর ফিনিশিংয়ের অভাব স্পষ্ট ছিল। ডি জারবিও ম্যাচের পর শেষ তৃতীয়াংশে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন।
চতুর্থ ম্যাচে টটেনহ্যাম নিজেদের মাঠে এভারটনের মুখোমুখি হয়। সেই ম্যাচেও গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। ফলে ০–০ ড্রয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পার্স। পাঁচ ম্যাচের মধ্যে তখন পর্যন্ত টটেনহ্যামের গোল ছিল শূন্য। চার ম্যাচ শেষে দলটির পয়েন্ট ছিল দুই, আর গোল ব্যবধান ছিল ঋণাত্মক পাঁচ। সেই সময় ডি জারবি বলেছিলেন, দলের পারফরম্যান্সে কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত এবং আত্মবিশ্বাসের জায়গায় উন্নতি প্রয়োজন।
এরপর পঞ্চম ম্যাচে ঘরের মাঠে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে পরিস্থিতি বদলানোর সুযোগ ছিল টটেনহ্যামের সামনে। কিন্তু সেই ম্যাচেও কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। অ্যাস্টন ভিলা ৩–২ গোলে জয় তুলে নেয়। টটেনহ্যামের হয়ে কনর গ্যালাঘার এবং জ্যাঁ-পল ভ্যান হেকে গোল করেন। তবে ভিলার জোহান মানজাম্বি, নিকোলাস জ্যাকসন ও এমি বুয়েন্দিয়া গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন। টটেনহ্যাম শেষদিকে দুই গোল করলেও সমতায় ফিরতে পারেনি। এই হারের ফলে পাঁচ ম্যাচ পরও জয়হীন থাকল ডি জারবির দল।
পাঁচ ম্যাচের হিসাব টটেনহ্যামের বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। ব্রেন্টফোর্ডের কাছে ৩–০, নিউক্যাসলের কাছে ২–০ এবং অ্যাস্টন ভিলার কাছে ৩–২ গোলে হার—এই তিন পরাজয়ের বিপরীতে নটিংহ্যাম ফরেস্ট ও এভারটনের সঙ্গে ০–০ ড্র করেছে তারা। অর্থাৎ পাঁচ ম্যাচে টটেনহ্যামের জয় শূন্য, ড্র দুইটি এবং হার তিনটি। দলটি মোট দুই গোল করেছে এবং প্রতিপক্ষের কাছে হজম করেছে আট গোল। ফলে গোল ব্যবধান দাঁড়িয়েছে -৬। সর্বশেষ ভিলার ম্যাচের পর টটেনহ্যাম দুই পয়েন্ট নিয়ে রেলিগেশন অঞ্চলে অবস্থান করছে।
এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই ডি জারবির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। তবে তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে টটেনহ্যামের সামনে বড় আর্থিক বিষয়ও রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির কারণে সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ফলে মাঠের ফলাফল খারাপ হলেও কোচ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত শুধু ফুটবলীয় বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না; চুক্তির আর্থিক শর্তও বিবেচনায় রাখতে হবে। এখন টটেনহ্যামের সামনে মূল প্রশ্ন হলো, ডি জারবিকে সময় দিয়ে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া হবে, নাকি দ্রুত পরিবর্তনের পথে হাঁটবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
