১১টি কলমে ‘শৈল্পিক’ নকল, তবু পরীক্ষায় ফেল

প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১১ অপরাহ্ণ
১১টি কলমে ‘শৈল্পিক’ নকল, তবু পরীক্ষায় ফেল

নকলের উদ্দেশ্যে ১১টি কলমে ক্ষুদ্র অক্ষরে লেখা হয়েছিল ফৌজদারি আইনের সিলেবাস

দেখতে একেবারেই সাধারণ ১১টি বলপয়েন্ট কলম। কিন্তু স্বচ্ছ প্লাস্টিকের গায়ে একটু ভালো করে চোখ রাখলেই দেখা যায় অস্বাভাবিক এক কারুকাজ। কলমগুলোর গায়ে অত্যন্ত ক্ষুদ্র অক্ষরে খোদাই করা ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের বিশাল সিলেবাস। পরীক্ষায় নকল করার উদ্দেশ্যে এমন অভিনব প্রস্তুতি নিয়েছিলেন স্পেনের এক আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা কাজে আসেনি; বরং সূক্ষ্ম কারুকাজের জন্য কলমগুলো প্রশংসা কুড়িয়েছে শিক্ষকের।

ঘটনাটি কয়েক বছর আগে স্পেনের মালাগা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইয়োলান্ডা দে লুচ্চি এক পরীক্ষার সময় এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১১টি BIC বলপয়েন্ট কলম জব্দ করেন। পরে কলমগুলো পরীক্ষা করে দেখা যায়, প্রতিটির স্বচ্ছ প্লাস্টিকের গায়ে অত্যন্ত ছোট অক্ষরে ফৌজদারি কার্যবিধির বিভিন্ন বিষয় লেখা রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, এত ক্ষুদ্র অক্ষরে লেখার জন্য ওই শিক্ষার্থী মেকানিক্যাল পেন্সিলের সিসের পরিবর্তে একটি সুচ ব্যবহার করেছিলেন বলে দাবি করা হয়। এর ফলে কলমের মতো ছোট জায়গায় এত বিপুল পরিমাণ তথ্য লিখতে তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্য ও অত্যন্ত নিখুঁত হাতের কাজ করতে হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

তবে নকলের জন্য এতটা পরিশ্রম করেও পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি ওই শিক্ষার্থী। জানা যায়, শেষ পর্যন্ত তিনি পরীক্ষায় ফেল করেন। এমনকি পুরো শিক্ষাবর্ষ আবার পড়তে হয়েছিল তাঁকে। অর্থাৎ, কলমে লেখা বিশাল সিলেবাস পরীক্ষার সময় কোনো কাজে আসেনি।

অধ্যাপক ইয়োলান্ডা দে লুচ্চি অবশ্য কলমগুলো ফেলে দেননি। বরং বহু বছর সেগুলো নিজের অফিসে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। ২০২২ সালে অফিস পরিষ্কার করার সময় আবার কলমগুলো তাঁর নজরে আসে। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেগুলোর ছবি প্রকাশ করেন।

ছবি প্রকাশের সময় অধ্যাপক কলমগুলোর সূক্ষ্ম কাজের প্রশংসা করেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘ক্রিমিনাল প্রসিডিউরাল ল’ ইন BIC পেন—কী শিল্প!’ তাঁর সেই পোস্টের পর কলমগুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়।

ছবিগুলো দেখে অনেকেই এত ছোট একটি জায়গায় এত বড় একটি সিলেবাস কীভাবে এত নিখুঁতভাবে লেখা সম্ভব হয়েছে, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। নকলের উদ্দেশ্যে তৈরি হলেও কলমগুলোর সূক্ষ্ম কাজ শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীর পরিকল্পনার চেয়ে বেশি আলোচনায় আসে।

ঘটনাটি তাই পরীক্ষায় নকলের একটি অদ্ভুত প্রচেষ্টা হিসেবেই নয়, একই সঙ্গে অসাধারণ ধৈর্য ও নিখুঁত হাতের কাজের একটি বিরল উদাহরণ হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে। তবে সেই কারুকাজের পেছনে যত পরিশ্রমই থাকুক, পরীক্ষায় তার কোনো সুবিধা পাননি শিক্ষার্থী—শেষ পর্যন্ত তাঁকে ফেল করেই পুরো শিক্ষাবর্ষ আবার পড়তে হয়েছিল।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page