সেপ্টেম্বর,অক্টোবরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার শঙ্কা প্রস্তুতির আহ্বান
সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও ডিসেম্বর মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিএমইউ উপাচার্য।
দেশে আগামী সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও ডিসেম্বর মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসাসেবা দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেঙ্গুর পরিবর্তিত পরিস্থিতি, নতুন চ্যালেঞ্জ ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ব্লক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সেমিনারে শিক্ষক, চিকিৎসক ও রেসিডেন্ট শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রকোপ মোকাবিলায় শুধু হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের প্রস্তুত থাকলেই হবে না। রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি মানুষের মধ্যে নিয়মিত প্রতিরোধমূলক আচরণ গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।
বিএমইউ উপাচার্য জানান, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগও জোরদার করতে হবে।
সেমিনারে ডেঙ্গুর পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও চিকিৎসাব্যবস্থায় তৈরি হওয়া নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে রোগটি দ্রুত শনাক্ত করা এবং সময়মতো যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আলোচনায় বলা হয়, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে কারা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় যেতে পারেন, তা দ্রুত শনাক্ত করা জরুরি। ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য সমন্বিত ব্যবস্থাপনা থাকা প্রয়োজন।
চিকিৎসকদের পাশাপাশি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও সেমিনারে তুলে ধরা হয়। ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস মশা সাধারণত স্বচ্ছ ও জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকতে পারে, সেসব জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি।
সেমিনারে আরও বলা হয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশা নিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করলে হবে না। একই সঙ্গে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, ব্যক্তিগত সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা এবং রোগের উপসর্গ সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়াতে হবে।
বিএমইউর সেন্ট্রাল সেমিনার সাব-কমিটির সদস্য ও কার্ডিওলজি বিভাগের হার্ট ফেইলিউর ডিভিশনের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. ডি এম এম ফারুক ওসমানীর সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. আতিয়ার রহমান, ডেন্টাল ডিন অধ্যাপক ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ এবং মেডিকেল টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. আবু হেনা চৌধুরীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও চিকিৎসকেরা।
ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এখন থেকেই হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুত থাকার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
