ইন্টারনেট ইতিহাসের ১২টি অবিস্মরণীয় প্রথম ঘটনা, যা বদলে দিয়েছে পুরো বিশ্ব
প্রথম ই–মেইল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইন্টারনেটের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
আজকের ডিজিটাল যুগে ই–মেইল, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা অনলাইন কেনাকাটা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গেছে। কিন্তু এই বিশাল প্রযুক্তি জগতের শুরু হয়েছিল ছোট ছোট কিছু উদ্ভাবনের মাধ্যমে। প্রথম ই–মেইল পাঠানো থেকে শুরু করে প্রথম ইউটিউব ভিডিও বা প্রথম টুইট—প্রতিটি ঘটনাই ইন্টারনেটের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন ১২টি উল্লেখযোগ্য প্রথম ঘটনা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
১. প্রথম ই–মেইল পাঠানো হয় ১৯৭১ সালে
বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম ই–মেইলের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭১ সালে। কম্পিউটার প্রকৌশলী রায় টমলিনসন নিজের কাছেই প্রথম ই–মেইল পাঠান।
তিনি পরবর্তীতে জানিয়েছিলেন, সেই প্রথম বার্তাটি নির্দিষ্ট কোনো বাক্য ছিল না। পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি বর্ণমালার এলোমেলো কিছু অক্ষর ব্যবহার করে বার্তাটি পাঠানো হয়েছিল।
এই পরীক্ষার মাধ্যমেই আধুনিক ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি হয়।
২. প্রথম ডোমেইন নাম নিবন্ধন
১৯৮৫ সালের ১৫ মার্চ ইন্টারনেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি ডোমেইন নাম নিবন্ধিত হয়। সেই ডোমেইনের নাম ছিল Symbolics.com।
ডোমেইন নিবন্ধনের এই ঘটনা পরবর্তী সময়ে ওয়েবসাইট তৈরির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করে। বর্তমানে এটি ইন্টারনেট ইতিহাসের অন্যতম পুরোনো ডোমেইন হিসেবে পরিচিত।
৩. বিশ্বের প্রথম ওয়েবসাইট
১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট বিশ্বের প্রথম ওয়েবসাইট চালু করেন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের উদ্ভাবক টিম বার্নার্স-লি।
ওয়েবসাইটটির ঠিকানা ছিল—
info.cern.ch/hypertext/WWW/TheProject.htm
এই ওয়েবসাইটে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব কীভাবে কাজ করে, সে বিষয়ে তথ্য দেওয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহারের নতুন যুগ শুরু হয়।
৪. ইন্টারনেটে প্রথম ছবি আপলোড
ইন্টারনেটে প্রথম ছবি আপলোডের কৃতিত্বও টিম বার্নার্স-লির। তিনি ‘Les Horribles Cernettes’ নামের একটি কমেডি ব্যান্ডের ছবি ওয়েবে প্রকাশ করেছিলেন।
এর মাধ্যমে ইন্টারনেটে শুধু লেখা নয়, ছবি ও ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট ব্যবহারের পথ তৈরি হয়।
৫. প্রথম ইনস্ট্যান্ট মেসেজ পাঠানো
১৯৯৩ সালের ৬ জানুয়ারি টেড লিওনসিস প্রথম এওএল (AOL) ইনস্ট্যান্ট মেসেজ পাঠান।
বার্তাটিতে লেখা ছিল—‘ভয় পেয়ো না, এটি আমি।’
তার স্ত্রী এর উত্তরে লেখেন—‘বাহ, দারুণ তো।’
পরবর্তী সময়ে টেড লিওনসিস এওএলের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
৬. প্রথম অনলাইন ব্যানার বিজ্ঞাপন
১৯৯৪ সালের অক্টোবর মাসে অনলাইনে প্রথম ব্যানার বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়।
জো ম্যাকক্যাম্বলি তৈরি করা এই বিজ্ঞাপনটি HotWired.com ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। এটি টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান AT&T-এর পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি হয়েছিল।
এই ঘটনার মাধ্যমে অনলাইন বিজ্ঞাপনের নতুন যুগ শুরু হয়।
৭. ইবেতে প্রথম বিক্রি হওয়া পণ্য
১৯৯৫ সালে ইবে তখন ‘AuctionWeb’ নামে পরিচিত ছিল। সেই প্ল্যাটফর্মে প্রথম বিক্রি হওয়া পণ্য ছিল একটি ভাঙা লেজার পয়েন্টার।
পণ্যটি বিক্রি হয়েছিল ১৪ দশমিক ৮৩ ডলারে।
ক্রেতা জানিয়েছিলেন, তিনি নষ্ট ও ভাঙা লেজার পয়েন্টার সংগ্রহ করতে পছন্দ করেন।
৮. অ্যামাজনে প্রথম বিক্রি হওয়া বই
১৯৯৫ সালে যাত্রা শুরু করা অ্যামাজনের প্রথম বিক্রি হওয়া পণ্য ছিল একটি বই।
বইটির নাম ছিল—
Fluid Concepts and Creative Analogies: Computer Models of the Fundamental Mechanisms of Thought
বইটির লেখক ছিলেন ডগলাস হফস্ট্যাডটার।
এই ছোট শুরু থেকেই অ্যামাজন পরবর্তী সময়ে বিশ্বের অন্যতম বড় অনলাইন মার্কেটপ্লেসে পরিণত হয়।
৯. স্কাইপে প্রথম বলা বাক্য
২০০৩ সালের এপ্রিল মাসে স্কাইপে প্রথম ভয়েস কল করা হয়।
প্রথম বাক্যটি ছিল এস্তোনীয় ভাষায়—
‘Tere, kas sa kuuled mind?’
এর অর্থ—‘হ্যালো, আপনি কি আমাকে শুনতে পাচ্ছেন?’
এই ছোট পরীক্ষাই পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাপী ভিডিও কলিং ব্যবস্থার জনপ্রিয়তার ভিত্তি তৈরি করে।
১০. ফেসবুকের প্রথম ব্যবহারকারী
ফেসবুকের প্রথম ব্যবহারকারী ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ।
তিনি নিজের জন্য ৪ নম্বর আইডি ব্যবহার করেছিলেন। এর আগে প্রথম তিনটি অ্যাকাউন্ট পরীক্ষামূলক কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল।
ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতাদের বাইরে প্রথম সাধারণ ব্যবহারকারী ছিলেন অরি হাসিত।
১১. ইউটিউবের প্রথম ভিডিও
২০০৫ সালের ২৩ এপ্রিল ইউটিউবের সহপ্রতিষ্ঠাতা জাভেদ করিম বিশ্বের প্রথম ইউটিউব ভিডিও আপলোড করেন।
ভিডিওটির নাম ছিল Me at the Zoo।
স্যান ডিয়েগো চিড়িয়াখানায় ধারণ করা এই ভিডিওটি ইউটিউবের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
১২. প্রথম টুইট
বর্তমানে এক্স নামে পরিচিত প্ল্যাটফর্মটি আগে টুইটার নামে পরিচিত ছিল।
২০০৬ সালের ২১ মার্চ টুইটারের সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসি প্রথম টুইট করেন।
সেই টুইটের লেখা ছিল—
“Just setting up my twttr”
এই ছোট বার্তার মাধ্যমেই সামাজিক যোগাযোগের নতুন একটি ধারার সূচনা হয়।
ইন্টারনেটের আজকের বিশাল জগত একদিনে তৈরি হয়নি। প্রথম ই–মেইল, প্রথম ওয়েবসাইট, প্রথম অনলাইন বিজ্ঞাপন কিংবা প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট—প্রতিটি ছোট উদ্যোগই ধীরে ধীরে বর্তমান ডিজিটাল সভ্যতার ভিত্তি তৈরি করেছে।
প্রযুক্তির ইতিহাসের এসব ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, বড় পরিবর্তনের শুরু অনেক সময় হয় ছোট একটি ধারণা বা পরীক্ষামূলক উদ্যোগ থেকে।
সূত্র: ইয়াহু
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
