বাংলা কিউআর পেমেন্ট চালুর দুই দিনের মাথায় ২২ কোটি টাকার লেনদেন

বাণিজ্য প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ
বাংলা কিউআর পেমেন্ট চালুর দুই দিনের মাথায় ২২ কোটি টাকার লেনদেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের বাধ্যতামূলক বাংলা কিউআর চালুর পর মাত্র দুই দিনে ৭৭ হাজারের বেশি লেনদেনে ২২ কোটি ২ লাখ টাকার ডিজিটাল পেমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে।

দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও সহজ, নিরাপদ ও সবার জন্য ব্যবহারযোগ্য করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের চালু করা বাংলা কিউআর (Bangla QR) ইতোমধ্যেই ইতিবাচক সাড়া পেতে শুরু করেছে। বাধ্যতামূলকভাবে বাংলা কিউআর চালুর পর মাত্র দুই দিনের মধ্যেই এই প্ল্যাটফর্মে ২২ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। প্রাথমিক এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট হচ্ছে, একীভূত কিউআরভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন ও ১ জুলাই—এই দুই দিনে বাংলা কিউআর ব্যবহার করে মোট ৭৭ হাজার ১৬৫টি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এসব লেনদেনের মোট মূল্য ২২ কোটি ২ লাখ টাকা। নতুন এই ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই এমন পরিমাণ লেনদেনকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি দেশের সব তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য বাংলা কিউআর ব্যবহারের নির্দেশনা কার্যকর করেছে। এর ফলে এখন একটি দোকানে একাধিক প্রতিষ্ঠানের আলাদা আলাদা কিউআর কোড প্রদর্শনের পরিবর্তে একটি বাংলা কিউআর ব্যবহার করেই বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার গ্রাহকরা অর্থ পরিশোধ করতে পারছেন।

এর আগে কোনো দোকানে বিকাশ, নগদ, রকেট বা নির্দিষ্ট কোনো ব্যাংকের আলাদা কিউআর কোড থাকায় গ্রাহকদের প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হতো। যদি দোকানে গ্রাহকের ব্যবহৃত প্রতিষ্ঠানের কিউআর না থাকত, তাহলে ডিজিটালভাবে অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হতো না। বাংলা কিউআর চালুর মাধ্যমে সেই সীমাবদ্ধতা দূর হয়েছে। এখন একটি বাংলা কিউআর স্ক্যান করেই অংশগ্রহণকারী যেকোনো ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার অ্যাপ থেকে সহজে পেমেন্ট করা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য দেশের ডিজিটাল লেনদেনকে আরও আন্তঃসংযোগযোগ্য (Interoperable) করা, যাতে গ্রাহক ও ব্যবসায়ী উভয়েই একই প্ল্যাটফর্মে সহজে লেনদেন সম্পন্ন করতে পারেন। এতে শুধু পেমেন্ট সহজ হবে না, বরং নগদ অর্থের ব্যবহারও ধীরে ধীরে কমবে এবং ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাওয়া সহজ হবে।

বাংলা কিউআরের আরেকটি বড় সুবিধা হলো, গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো চার্জ নেওয়া হয় না। অর্থাৎ দোকানে কেনাকাটার সময় বাংলা কিউআর ব্যবহার করে পেমেন্ট করলে গ্রাহককে আলাদা কোনো লেনদেন ফি দিতে হয় না। ফলে নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি ছাড়াই দ্রুত, নিরাপদ এবং বিনা চার্জে ডিজিটাল লেনদেন করা সম্ভব হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের শহরাঞ্চলের পাশাপাশি উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়েও বাংলা কিউআর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে আরও সহজে যুক্ত হতে পারবেন। ছোট মুদি দোকান, ফার্মেসি, রেস্টুরেন্ট, কাঁচাবাজার, পরিবহন, পোশাকের দোকানসহ বিভিন্ন খুচরা ব্যবসায় এখন একটি মাত্র কিউআর কোড ব্যবহার করেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একীভূত কিউআর ব্যবস্থা চালু হওয়ায় ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণে ব্যবসায়ীদের খরচ ও জটিলতা কমবে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের জন্যও আলাদা আলাদা অ্যাপ বা কিউআর নিয়ে বিভ্রান্তি থাকবে না। একটি নির্দিষ্ট মানের কিউআর ব্যবহারের ফলে ডিজিটাল লেনদেনের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বাংলা কিউআর ব্যবহারকারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের গ্রাহকদের এই সেবা ব্যবহারে আরও উৎসাহিত করবে। এতে দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম আরও শক্তিশালী হবে এবং লেনদেন হবে দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরাপদ।

প্রাথমিক দুই দিনের পরিসংখ্যানই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাংলা কিউআর শুধু একটি নতুন প্রযুক্তি নয়; বরং এটি দেশের ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, সমন্বিত এবং ব্যবহারবান্ধব করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে এই প্ল্যাটফর্মে প্রতিদিন কয়েকশ কোটি টাকার লেনদেন হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন