স্টেডিয়ামে ঢুকতে পারবেন না আর্জেন্টিনার ১৩ হাজার সমর্থক

reporter
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ
স্টেডিয়ামে ঢুকতে পারবেন না আর্জেন্টিনার ১৩ হাজার সমর্থক

স্টেডিয়ামে ঢুকতে পারবেন না আর্জেন্টিনার ১৩ হাজার সমর্থক

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেল আর্জেন্টিনার এক বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী। লিওনেল মেসিদের খেলা গ্যালারিতে বসে দেখার স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছে দেশটির প্রায় ১৩ হাজার সমর্থকের। সন্তানের আইনি ভরণপোষণ বা ‘চাইল্ড সাপোর্ট’ পরিশোধ না করায় তাদের স্টেডিয়ামে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

আগামী ১৭ জুন বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই সমর্থকদের একটি অংশের জন্য এলো এই অস্বস্তিকর খবর।

আর্জেন্টিনা সরকারের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটির আদালতের তালিকাভুক্ত ভরণপোষণ বকেয়া থাকা প্রায় ১৩ হাজার অভিভাবকের তথ্য মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বুয়েনস আইরেসের মেয়র হোর্হে মাক্রি গণমাধ্যমকে বলেন, যারা নিজেদের সন্তানের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ, তাদের হাজার হাজার ডলার ব্যয় করে স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখার অধিকার নেই।

আর্জেন্টিনার জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বকেয়া ভরণপোষণ না দেওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে একটি বিশেষ কালো তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এই তালিকা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বিশ্বকাপে প্রবেশের জন্য বাধ্যতামূলক ডিজিটাল ‘ফ্যান আইডি’ ব্যবস্থার সঙ্গে আর্জেন্টিনার নিরাপত্তা ডেটাবেজ সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে কালো তালিকাভুক্ত কোনো ব্যক্তি টিকিট কেনার চেষ্টা করলেও বা স্টেডিয়ামে প্রবেশের সময় স্ক্যান করলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার প্রবেশাধিকার বাতিল হয়ে যাবে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু স্টেডিয়ামে প্রবেশ নয়, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা বিশ্বকাপের ম্যাচের টিকিটও কিনতে পারবেন না। এর মাধ্যমে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং ভরণপোষণ আদায়ে চাপ তৈরি করাই মূল উদ্দেশ্য।

তবে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি স্থায়ী নয়। আর্জেন্টাইন প্রশাসন জানিয়েছে, ম্যাচ শুরুর আগে কেউ যদি তার সন্তানের সব বকেয়া ভরণপোষণ আইন অনুযায়ী পরিশোধ করেন, তাহলে তার নাম কালো তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। এরপর তিনি স্বাভাবিকভাবে স্টেডিয়ামে প্রবেশ ও খেলা দেখার সুযোগ পাবেন।

বিশ্বকাপকে ঘিরে এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে আর্জেন্টিনাজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে দায়িত্বহীন অভিভাবকদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার একটি কার্যকর উদ্যোগ বলেও মনে করছেন।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন