জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এবং এইচআইভি/এইডস রোগীদের চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখতে ৪৬৩ কোটি টাকার বেশি মূল্যের টিকা ও ওষুধ কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের চারটি পৃথক ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মোট ৪৬৩ কোটি ৪৪ লাখ ৫৭ হাজার ২০ টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যখাতের গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগের মাধ্যমে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি, যক্ষ্মা প্রতিরোধ এবং এইচআইভি আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আরও পড়ুন-কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল টেস্ট খরচ ২০২৬(সরকারি নির্ধারিত ফি)
সরকারি সূত্র জানায়, অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় ব্যবহৃত অত্যাবশ্যকীয় অ্যান্টি-টিবি ওষুধ সংগ্রহ। দেশে যক্ষ্মা রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রমে কোনো ধরনের ঘাটতি তৈরি না হয়, সেজন্য অতিরিক্ত ওষুধ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে রেনেটা পিএলসির কাছ থেকে অতিরিক্ত ১ কোটি ৭ লাখ ৭৩ হাজার ইউনিট অ্যান্টি-টিবি ওষুধ সংগ্রহ করা হবে। এতে অতিরিক্ত ব্যয় হবে ১৫ কোটি ৫১ লাখ টাকার বেশি।
এ ছাড়া যক্ষ্মা রোগ দ্রুত শনাক্তে ব্যবহৃত জিনএক্সপার্ট কার্ট্রিজ কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে অতিরিক্ত প্রায় ২ লাখ ৯৬ হাজার কার্ট্রিজ সংগ্রহ করা হবে, যার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার বেশি।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে যক্ষ্মা এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হন। একইভাবে এইচআইভি/এইডস রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
কমিটির অনুমোদিত প্রস্তাবের মধ্যে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যবহৃত টিকা সংগ্রহ এবং এইচআইভি/এইডস রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ওষুধ ক্রয়ের বিষয়ও রয়েছে। এর মাধ্যমে টিকাদান কর্মসূচি সচল রাখা এবং রোগীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে টিকা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ত মজুত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি এবং যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে কোনো ধরনের সরবরাহ সংকট তৈরি হলে জনস্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এই অনুমোদনের ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় টিকা ও ওষুধ সংগ্রহের পথ আরও সহজ হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সূত্র: সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন।
আরও পড়ুন-চিকিৎসা ব্যয় কমাতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিলো সরকার










