ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে বিদ্যমান ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে আইএসপিএবি

প্রকাশিত: 06-06-2026 11:20 AM
ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে বিদ্যমান ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে

আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট খাতে বড় ধরনের দাবি জানিয়েছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইন্টারনেট–সেবার ওপর আরোপিত সব ধরনের কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রত্যাহার করা না হলে দেশের ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রম এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

আরও পড়ুন-স্বর্ণ কিনতে বাড়তে পারে খরচ, জুয়েলারি খাতে আসছে নতুন ভ্যাট ব্যবস্থা

আইএসপিএবির সভাপতি আমিনুল হাকিমের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর রয়েছে। তবে আগামী বাজেটে এই ভ্যাট আবারও ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হতে পারে বলে যে আলোচনা চলছে, তা ইন্টারনেট খাতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি মনে করেন, এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হবে এবং নতুন গ্রাহক সংযোগ বৃদ্ধির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

বাংলাদেশে বর্তমানে ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের হার এখনও প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর মধ্যে মাত্র ৮ শতাংশ মানুষ ফিক্সড ব্রডব্যান্ড সংযোগ ব্যবহার করছেন। অথচ সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইন্টারনেটের মূল্য যত কমবে, তত বেশি মানুষ ডিজিটাল সেবার আওতায় আসবে। বর্তমানে অনলাইন শিক্ষা, ফ্রিল্যান্সিং, ই-কমার্স, ডিজিটাল ব্যাংকিং এবং সরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণে ইন্টারনেট অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তাই ইন্টারনেটের ওপর করের চাপ বাড়ানোর পরিবর্তে তা আরও কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন তারা।

আমিনুল হাকিম বলেন, শুধু গ্রাহক পর্যায়ের ৫ শতাংশ ভ্যাট মওকুফ করলেই হবে না, বরং ইন্টারনেট সরবরাহ ব্যবস্থার পুরো চেইনে কর কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। বর্তমানে আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল কেবল (আইটিসি), ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) এবং ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের কর ও শুল্ক আরোপিত রয়েছে, যা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তার মতে, কর ও ভ্যাট কমানো হলে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো কম খরচে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে। একই সঙ্গে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও উচ্চগতির ইন্টারনেট সম্প্রসারণ সহজ হবে। এর ফলে তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং ফ্রিল্যান্সিং খাত আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।

প্রযুক্তি খাতের বিশ্লেষকদেরও একটি বড় অংশ মনে করেন, ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি হলো সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী ইন্টারনেট। ইন্টারনেট ব্যবহারের হার বাড়লে অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, সফটওয়্যার রপ্তানি এবং ডিজিটাল উদ্যোক্তা কার্যক্রমও দ্রুত সম্প্রসারিত হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে সরকারও পরোক্ষভাবে বেশি রাজস্ব আয় করতে পারে।

বর্তমানে দেশে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার যে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, তার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো ইন্টারনেট। তাই বাজেটে যদি ভ্যাট বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে তা সাধারণ গ্রাহকদের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক আইসিটি খাতের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

এ অবস্থায় আসন্ন বাজেটে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ওপর বিদ্যমান ৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে আইএসপিএবি। সংগঠনটির মতে, কর হ্রাসের মাধ্যমে ইন্টারনেটকে আরও সাশ্রয়ী করা গেলে দেশের ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রম নতুন গতি পাবে এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পথ উন্মুক্ত হবে।

সূত্র: প্রথম আলো

আরও পড়ুন-ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য সুখবর? কর নিয়ে যা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে আমি 'টেক বাংলা নিউজ' (ssitbari.com)-এ নিয়মিত বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক ও আপডেটেড কনটেন্ট প্রকাশ করি। প্রযুক্তি, মোবাইল, গ্যাজেটসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় সহজ ও বোধগম্য ভাষায় পাঠকদের কাছে তুলে ধরা আমার লক্ষ্য। নির্ভরযোগ্য তথ্য, বিশ্লেষণ ও উপকারী টিপসের মাধ্যমে পাঠকদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now