ইসলাম মানবজীবনের শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে এমন কিছু বিধান দিয়েছে, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে ক্ষতিকর কাজ থেকে দূরে রাখে। সেই বিধানগুলোর অন্যতম হলো মদ ও জুয়া নিষিদ্ধ করা। ইসলামে মদপান এবং জুয়া শুধু অপছন্দনীয় নয়, বরং স্পষ্টভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।
ইসলাম মানুষের বিবেক, বুদ্ধি ও নৈতিকতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। অথচ মাদক ও জুয়া মানুষের চিন্তাশক্তিকে দুর্বল করে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নষ্ট করে এবং তাকে নানা অন্যায় ও অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়। এ কারণেই ইসলাম শুরু থেকেই এসব কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
আরও পড়ুন- শুধু ‘কবুল’ নয়, যেসব শব্দগুলো বললেও সম্পন্ন হয় বিয়ে
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,
“তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দিন, এতে রয়েছে বড় গুনাহ এবং মানুষের জন্য কিছু উপকারও আছে। তবে এর গুনাহ উপকারের চেয়ে অনেক বড়।”
(সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ২১৯)
ইসলামি শিক্ষায় মদকে সব অকল্যাণের মূল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। কারণ নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং এমন কাজ করতে পারে, যা স্বাভাবিক অবস্থায় সে কখনো করত না।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“তোমরা মদপান থেকে বিরত থাকো। কারণ এটি সব ধরনের অকল্যাণের চাবিকাঠি।”
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩৩৭১)
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকাসক্তি শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, তার পরিবার, কর্মজীবন এবং সামাজিক অবস্থানকেও ধ্বংস করে দেয়। অনেক পরিবার ভেঙে যাওয়ার পেছনে মাদকাসক্তির ভূমিকা রয়েছে।
অন্যদিকে জুয়াও ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কারণ জুয়া মানুষের মধ্যে লোভ, প্রতারণা, শত্রুতা ও আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এতে পরিশ্রম ছাড়া অর্থ লাভের মানসিকতা তৈরি হয়, যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
আল্লাহ তাআলা কোরআনে ঘোষণা করেছেন,
“হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তি ও ভাগ্য নির্ধারণের শরসমূহ অপবিত্র এবং শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা এগুলো থেকে দূরে থাকো, যাতে সফল হতে পারো।”
(সুরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৯০)
কোরআনের পরবর্তী আয়াতে আরও বলা হয়েছে যে, শয়তান মদ ও জুয়ার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায় এবং আল্লাহর স্মরণ ও নামাজ থেকে দূরে রাখতে চায়।
বর্তমান সময়ে জুয়ার ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। প্রচলিত ক্যাসিনো বা তাস খেলার পাশাপাশি অনলাইন বেটিং, ক্যাসিনো অ্যাপ, স্পোর্টস বেটিং এবং বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল জুয়ার বিস্তার ঘটেছে। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে এসবের সবই হারাম।
হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“যে ব্যক্তি অন্য কাউকে জুয়া খেলতে আহ্বান করবে, সে যেন সদকা করে।”
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১০৮)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, শুধু জুয়া খেলা নয়, জুয়ার প্রতি উৎসাহ দেওয়া বা আহ্বান করাও ইসলামে নিন্দনীয় কাজ।
ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ হারাম। আর হারাম উপার্জন মানুষের ইবাদত, দোয়া ও নেক আমলের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তাই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে নিরাপদ রাখতে ইসলাম মদ, জুয়া এবং সব ধরনের নেশাজাতীয় কার্যক্রম থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে এসব ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতা প্রয়োজন।
ইসলামের শিক্ষা হলো—মানুষ যেন নিজের বিবেক, চরিত্র ও নৈতিকতাকে রক্ষা করে একটি সুন্দর ও কল্যাণকর জীবন গড়ে তুলতে পারে। আর সে কারণেই মদ ও জুয়া ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
আরও পড়ুন- মায়ের খিদমত ইহকাল-পরকালের সফলতা










