কোরবানি ঈদের পর রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে কিছু সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। বেশ কয়েকটি মৌসুমি সবজি আগের তুলনায় কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে সামগ্রিকভাবে এখনো স্বস্তি ফিরেনি। মাছ, ডাল ও চালের উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ ক্রেতারা ব্যয়ভার কমার কোনো বাস্তব সুফল পাচ্ছেন না।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৌসুমি সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় কিছু পণ্যের দাম কমেছে। তবে অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম আগের অবস্থানেই থাকায় বাজারে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়নি।
আরও পড়ুন- বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম, দেশে ভরিতে কমেছে ৩২৬৬ টাকা
রাজধানীর মিরপুর-৬ ও মিরপুর-১১ এলাকার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সবজি বর্তমানে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগে একই সবজির দাম ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে। যদিও কিছু সবজি এখনো ৮০ টাকার আশপাশেই বিক্রি হচ্ছে।
বর্তমানে পটোল ও ঢ্যাঁড়শ ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ঝিঙা, করলা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দলের দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা। আলুর দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকা থাকলেও কাঁচা মরিচের দাম এখনো ১০০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে রয়েছে।
এ ছাড়া টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পেঁপে ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং বেগুন ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। একটি মাঝারি আকারের লাউ কিনতে খরচ করতে হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। কাঁচকলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় এবং লেবুর হালি ১৫ থেকে ২০ টাকায়।
অন্যদিকে, আমদানিনির্ভর বা অপেক্ষাকৃত দামি সবজির মধ্যে কেপসিকামের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়।
মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে দেশি মুরগির দাম এখনো অনেক বেশি। বাজারে দেশি মুরগির কেজি ৭০০ থেকে ৭২০ টাকা এবং লাল লেয়ার মুরগি ৩৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
ডিমের বাজারেও সামান্য স্বস্তি এসেছে। ফার্মের লাল ডিমের ডজন ১৩০ টাকা এবং সাদা ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ১০ টাকা কম। তবে দেশি মুরগির ডিমের হালি ৮০ থেকে ৯০ টাকা এবং হাঁসের ডিমের ডজন ২০০ থেকে ২২০ টাকা রয়েছে।
মাছের বাজারে এখনো কোনো স্বস্তি নেই। রুই ও কাতলা মাছের কেজি ৩২০ থেকে ৩৮০ টাকা, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম কেজিতে ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা পর্যন্ত।
এ ছাড়া দেশি শিং, শোল, টেংরা ও পাবদাসহ বিভিন্ন মাছের দামও আগের মতোই উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে মাছ কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।
ডালের বাজারেও মূল্যবৃদ্ধির চাপ অব্যাহত রয়েছে। চিকন মসুর ডাল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা এবং মোটা মসুর ডাল ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মুগ ডাল, মাষকলাই ও বুটের ডালের দামও তুলনামূলক বেশি।
চালের বাজারেও তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল ৭৫ থেকে ৯৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। নন-ব্র্যান্ড মিনিকেট চালের দামও ৭০ টাকার নিচে নামেনি।
বাজার করতে আসা অনেক ক্রেতা বলছেন, শুধু সবজির দাম সামান্য কমলেই স্বস্তি আসে না। মাছ, ডাল, চালসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম না কমলে সংসারের ব্যয়ভার কমানো সম্ভব নয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও কিছু পণ্যের দাম কমতে পারে। তবে বাজারে প্রকৃত স্বস্তি ফিরতে হলে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল হওয়া প্রয়োজন।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
আরও পড়ুন- মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় আবারও বাড়ল তেলের দাম







