কয়েক সপ্তাহের টানা অস্থিরতার পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অনিশ্চয়তা এবং মার্কিন সুদের হার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের মধ্যে শুক্রবার (৫ জুন) স্বর্ণের দাম কমেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পট গোল্ডের দাম ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৫২.২০ ডলারে নেমে এসেছে। চলতি সপ্তাহে মূল্যবান এই ধাতুর দাম প্রায় ১.৮ শতাংশ কমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আরও পড়ুন- মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় আবারও বাড়ল তেলের দাম
একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারের দামও কমেছে। সর্বশেষ লেনদেনে এর মূল্য ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৭৮.৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের ওপর চাপ সৃষ্টির অন্যতম কারণ হলো বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা। সুদের হার বাড়লে সাধারণত স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যায়।
এবিসি রিফাইনারির গ্লোবাল হেড অব ইনস্টিটিউশনাল মার্কেটস নিকোলাস ফ্র্যাপেল বলেন, ইরান-সংক্রান্ত রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাধারণত অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বা মুদ্রাস্ফীতির সময়ে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন।
সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৫১ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ কারণে অনেক বিনিয়োগকারী স্বর্ণের পরিবর্তে অন্যান্য সম্পদে ঝুঁকছেন।
এদিকে শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন দেখা গেছে। রুপার দাম ১.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭২.৮৯ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ১.১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৭৮.৬৮ ডলারে। একইভাবে প্যালাডিয়ামের দামও ১.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৯৮.৪৫ ডলারে নেমে এসেছে।
বিশ্ববাজারের এই প্রবণতার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। ঈদের পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
সংগঠনটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছে। ফলে বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়ায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে।
বর্তমান মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা।
বিশ্লেষকদের ধারণা, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আরও কিছুদিন চাপের মধ্যে থাকতে পারে। তবে বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সুদের হার এবং বিনিয়োগকারীদের আচরণের ওপর ভবিষ্যৎ বাজার পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে।
সূত্র: NEWS24
আরও পড়ুন- সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারকারীদের জন্য স্বস্তি, জুন মাসে কমলো এলপিজির দাম






