দেশের কারিগরি শিক্ষা খাতে বড় ধরনের সংকটের চিত্র সামনে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় ১৪৭টি বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত এবং পাঠদানের অনুমোদন বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (বিটিইবি)।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামী ১৮ জুনের মধ্যে কেন তাদের ভর্তি কার্যক্রম ও পাঠদানের অনুমোদন বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে না, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন- শিক্ষায় রেকর্ড ১.২৩ লাখ কোটি টাকার বাজেট, যা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের জারি করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। পরে চিঠিটি সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল এবং ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার শিক্ষাক্রম পরিচালনাকারী অনেক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময় ধরে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারেনি। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমের প্রতিষ্ঠান। এছাড়া ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ও ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার শিক্ষাক্রম পরিচালনাকারী বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও তালিকাভুক্ত হয়েছে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ড বলছে, বছরের পর বছর শিক্ষার্থী না থাকলে একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা ও শিক্ষার মান নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। তাই ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত এবং পাঠদানের অনুমোদন বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, কিছু প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব, দক্ষ শিক্ষকের সংকট, আধুনিক ল্যাব সুবিধার ঘাটতি এবং কর্মমুখী শিক্ষার মান কমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমেছে। এর ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে ভর্তি সংকটে রয়েছে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতি প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২০ অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে বোর্ড তাদের অনুমোদন বাতিল বা প্রত্যাহার করতে পারে।
নীতিমালার উপবিধি ৫.৪ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের ফলাফল, অবকাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, ব্যবস্থাপনা কমিটি, লাইব্রেরি, যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র এবং অনুমোদনের সময় আরোপিত অন্যান্য শর্ত পূরণ না হলে সরকারের অনুমোদনক্রমে পাঠদানের অনুমতি বাতিল করা সম্ভব।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাখ্যা পাওয়ার পর সেগুলো পর্যালোচনা করা হবে। সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে চূড়ান্তভাবে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত ও পাঠদানের অনুমোদন বাতিল করা হতে পারে।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। তাই শিক্ষার্থী হারানো প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান খোঁজার পাশাপাশি শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াও জরুরি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা দেখুন এখানে…
সূত্র: দৈনিক শিক্ষাডটকম
আরও পড়ুন- এআই কি বদলে দেবে শিক্ষা ব্যবস্থা, নাকি কমিয়ে দেবে শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি?










