রাজধানীতে রিকশা, অটোরিকশা ও ভ্যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে— এমন আলোচনা ও গুঞ্জনের মধ্যে নতুন করে ব্যাখ্যা দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সংস্থাটির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম জানিয়েছেন, এসব যানবাহন বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে নগর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে রিকশা, অটোরিকশা ও ভ্যানকে লাইসেন্স ও নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন-বিকট শব্দ সৃষ্টি করা মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু,জরিমানা কত?
সোমবার (১ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রিকশা, ভ্যান ও অটোচালক দলের আয়োজিত এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
মো. আবদুস সালাম বলেন, ঢাকা শহরের মতো একটি ব্যস্ত মহানগরে বিশৃঙ্খল পরিবহনব্যবস্থা দীর্ঘদিন চলতে পারে না। নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে এবং যানবাহন পরিচালনায় জবাবদিহিতা আনতে রিকশা ও অটোরিকশাকে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। এজন্য লাইসেন্সিং ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, রাজধানীতে বর্তমানে অনেক চালক বাইরে থেকে এসে রিকশা বা অটোরিকশা চালানো শুরু করেন। এতে যানবাহনের সঠিক হিসাব রাখা কঠিন হয়ে পড়ে এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনায় নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। ভবিষ্যতে নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু হলে কোন চালক কোন এলাকায় যানবাহন পরিচালনা করছেন, সে বিষয়েও একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসকের মতে, নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং চালু করা গেলে শুধু শৃঙ্খলাই বাড়বে না, বরং যানজট কমাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে চালকদের পরিচয়, কার্যক্রম এবং যানবাহনের তথ্য সংরক্ষণ করা সহজ হবে, যা আইনশৃঙ্খলা ও নগর ব্যবস্থাপনার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ব্যাটারিচালিত রিকশার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসব যানবাহনের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে ব্রেকিং ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং কারিগরি ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কীভাবে এসব যানবাহন পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে চালক ও সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, জীবিকার সঙ্গে জড়িত মানুষদের উচ্ছেদ বা কর্মহীন করার কোনো পরিকল্পনা নেই। যারা রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা চালিয়ে পরিবার পরিচালনা করছেন, তাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। বরং শৃঙ্খলাপূর্ণ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবহন খাতের সমস্যার সমাধান খোঁজা হবে।
এদিকে রাজধানীর সড়কে প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর বিষয়টিও তুলে ধরেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি জানান, ইলেকট্রনিক ট্রাফিক সিগন্যাল এবং স্বয়ংক্রিয় জরিমানার ব্যবস্থা ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। ভবিষ্যতে রিকশা ও অটোরিকশা খাতেও একই ধরনের আধুনিক ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে চালক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রাজধানীর পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো, যানজট কমানো এবং চালকদের একটি নিবন্ধিত কাঠামোর মধ্যে আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে চালক, মালিক ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানিয়েছে সিটি করপোরেশন।
তথ্যসূত্র: Rtv News
আরও পড়ুন-আজ থেকেই ঢাকার রাস্তায় এআই ক্যামেরায় অটো মামলা ট্রাফিক আইন চালু







