খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে পাঁচ পর্বের লেখা প্রকাশ কাউছার আজিজীর
খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে কাউছার আজিজীর পাঁচ পর্বের লেখা
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা ও জেলা পরিষদের কার্যক্রম নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পাঁচ পর্বের লেখা প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা কাউছার আজিজী।
তার ধারাবাহিক পোস্টগুলোতে জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বৈষম্য, স্বজনপ্রীতি, নিয়োগে অনিয়ম, ত্রাণ বিতরণে পক্ষপাতিত্ব এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাবসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যানকে অপসারণ এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে জেলা পরিষদ পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
পাঁচ পর্বে প্রকাশিত লেখাগুলোতে কাউছার আজিজী অভিযোগ করেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ইসলাম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আবেদনকে যথাযথ গুরুত্ব দেন না এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ করেন। দক্ষিণ দাঁতকুপিয়া মসজিদের একটি খাটিয়ার জন্য দেওয়া আবেদনপত্র ছুড়ে ফেলার অভিযোগও তিনি উল্লেখ করেন। তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হওয়ার পর জেলা পরিষদ থেকে ওই মসজিদকে খাটিয়া দেওয়া হয়।
অন্য একটি পর্বে তিনি অভিযোগ করেন, পাহাড়ধস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি মুসলিম পরিবার জেলা পরিষদের ত্রাণ সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে হাফেজ আশরাফ আলী ও মুহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমানের পরিবারও ছিল। তিনি দাবি করেন, ত্রাণ বিতরণে বৈষম্য ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে।
চতুর্থ পর্বে কাউছার আজিজী জেলা পরিষদে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি এ বিষয়ে প্রকাশিত একটি জাতীয় দৈনিকের সংবাদ উদ্ধৃত করে দাবি করেন, জেলা পরিষদে স্বজনপ্রীতি ও পারিবারিক প্রভাবের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওই প্রতিবেদনে জেলা পরিষদের একাধিক নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যও প্রকাশিত হয়েছে।
পঞ্চম পর্বে তিনি জেলা পরিষদের আর্থিক অনুদান বিতরণেও বৈষম্যের অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, অনুদান বিতরণের নথিপত্র প্রকাশ করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করেছেন।
কাউছার আজিজীর এই ধারাবাহিক লেখাগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার প্রথম পোস্টে প্রায় ১১ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া, প্রায় ৫ হাজার শেয়ার এবং প্রায় ২ হাজার মন্তব্য পড়েছে বলে জানা গেছে। পরবর্তী পোস্টগুলোতেও নতুন পাঠক যুক্ত হচ্ছেন এবং অনেকেই বিষয়গুলো তদন্তের দাবি জানিয়ে মন্তব্য করছেন। তবে কাউছার আজিজীর উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা কিংবা জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
