কুমিল্লা নগরীতে বিকট শব্দ সৃষ্টি করা মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশের অভিযানের একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযানের সময় এক মোটরসাইকেল চালকের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এরপরই শব্দ দূষণ সৃষ্টি করে এমন মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের জন্য কঠোর বার্তা দিয়েছেন দায়িত্বরত ট্রাফিক কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন-ট্রাফিক সিগন্যাল ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড হবে ভিডিও, পরে মোবাইলে যাবে মামলার নোটিশ
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন শহরে মোটরসাইকেলের সাইলেন্সার পরিবর্তন করে অতিরিক্ত শব্দ তৈরির প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ মোটরসাইকেলে পরিবর্তিত সাইলেন্সার ব্যবহার করে উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করছেন, যা সাধারণ মানুষের জন্য বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবাসিক এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং ব্যস্ত সড়কে এ ধরনের মোটরসাইকেলের চলাচল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল।
আজ কুমিল্লায় পরিচালিত এক অভিযানে ট্রাফিক পুলিশ একটি মোটরসাইকেল থামিয়ে যাচাই-বাছাই করে। পরে বিকট শব্দ সৃষ্টির অভিযোগে চালকের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। অভিযানে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, শব্দ দূষণ রোধে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত এক ট্রাফিক কর্মকর্তা জানান, অনেক চালক মনে করেন মোটরসাইকেলের সাইলেন্সার পরিবর্তন করা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। কিন্তু বাস্তবে এটি জনসাধারণের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সড়কে চলাচলকারী অন্য যানবাহনের চালক, পথচারী, শিশু এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ কারণে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বিকট শব্দ সৃষ্টি করে এমন মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে এখন থেকে আরও কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রথমবার ধরা পড়লে চালকদের উল্লেখযোগ্য অঙ্কের জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। একই অপরাধ পুনরায় করলে সেই জরিমানার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে। পরবর্তী প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রেও আগের তুলনায় বাড়তি অর্থদণ্ড আরোপ করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ট্রাফিক পুলিশের দাবি, শুধুমাত্র জরিমানা আদায় নয়, বরং জনসচেতনতা তৈরি করাই এই অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য। অনেক চালক আইন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় পরিবর্তিত সাইলেন্সার ব্যবহার করছেন। তবে অভিযানের মাধ্যমে তাদের সতর্ক করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আইন অমান্য করলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
কুমিল্লায় আজকের অভিযানে আটক হওয়া মোটরসাইকেলের চালকের বিরুদ্ধে ১৫ হাজার টাকার মামলা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, পুনরায় একই ধরনের অপরাধে জড়িত হলে জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে ৩০ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে। এরপরও অপরাধ অব্যাহত থাকলে প্রতিবার জরিমানার অঙ্ক আরও বাড়বে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখার পর অনেকেই ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, সড়কে বিকট শব্দের মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণে আনতে নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন। কারণ দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের মোটরসাইকেল সাধারণ মানুষের অসন্তোষের কারণ হয়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মোটরসাইকেল মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন অনুমোদিত যন্ত্রাংশ ব্যবহার করেন এবং সাইলেন্সার পরিবর্তনের মাধ্যমে অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকেন। অন্যথায় যেকোনো সময় অভিযানে পড়ে আইনগত ব্যবস্থা ও বড় অঙ্কের জরিমানার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
সূত্র – news24
আরও পড়ুন-আজ থেকেই ঢাকার রাস্তায় এআই ক্যামেরায় অটো মামলা ট্রাফিক আইন চালু






