বিশ্বব্যাংক থেকে বাংলাদেশ পাচ্ছে ১১০ কোটি ডলার

reporter
বাণিজ্য প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
বিশ্বব্যাংক থেকে বাংলাদেশ পাচ্ছে ১১০ কোটি ডলার

খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি ও জরুরি সেবার জন্য বাংলাদেশকে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।

বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং জরুরি সেবা সচল রাখতে প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা) জরুরি সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। বৈশ্বিক সার ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলা এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে এই অর্থায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিশ্বব্যাংক দুটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় এ অর্থায়নের অনুমোদন দেয়। সংস্থাটির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই সহায়তার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখা, ক্ষুদ্র কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ নিশ্চিত করা, জীবিকা সুরক্ষা এবং জরুরি সেবাগুলো সচল রাখতে সরকারকে সহায়তা করা হবে।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসমে বলেন, এই অর্থায়নের ফলে ধান উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থান রক্ষা এবং বিদ্যমান জরুরি সেবাগুলোও সচল রাখা যাবে।

অনুমোদিত অর্থের মধ্যে ‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি প্রজেক্ট’-এর আওতায় ৩০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ ২০২৬ সালের আমন মৌসুম এবং ২০২৬-২৭ সালের বোরো মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার আমদানিতে ব্যয় করা হবে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট সারের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৬ লাখ টন সার আমদানির অর্থায়ন করা হবে, যার বড় অংশই ইউরিয়া সার। এতে প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে ধান চাষ অব্যাহত রাখতে ক্ষুদ্র কৃষকরা প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন।

প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার ও বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ সুলেমান কৌলিবালি বলেন, দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে আমন ও বোরো মৌসুম থেকে। একই সঙ্গে দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই সারের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য পরিস্থিতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এ ছাড়া ‘কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় আরও ৭১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার দেওয়া হবে। এই অর্থ দ্রুত ছাড় করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নগদ সহায়তা, জীবিকা পুনরুদ্ধার কর্মসূচি এবং খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের মতো জরুরি খাতে ব্যয় করা হবে। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, প্রকল্পের অর্থ আগামী ৩০ জুনের মধ্যেই ছাড় করা হবে।

বিশ্বব্যাংকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ লেসলি জিন ইউ করদেরো বলেন, চলমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে এই সহায়তা দ্রুত ছাড় করা সম্ভব হচ্ছে। এতে অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলায় সাধারণ মানুষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মসংস্থান সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা যাবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন