তিলেকপুর হাটে খাজনার নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় হামলা ও মোবাইল ছিনতাই

প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
তিলেকপুর হাটে খাজনার নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় হামলা ও মোবাইল ছিনতাই

তিলেকপুর হাটে খাজনার নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

নওগাঁ সদর উপজেলার তিলেকপুর ইউনিয়নের তিলেকপুর হাটে খাজনা আদায়ের নামে নির্ধারিত অর্থের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় এক ব্যক্তিকে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে হাটে এ ঘটনা ঘটে বলে তিনি ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তিলেকপুর হাটে পণ্য বিক্রি করতে আসা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে খাজনা আদায়ের নামে নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এমনকি গুম ও হত্যার হুমকি দেওয়ার মতো অভিযোগও করেছেন তিনি। একপর্যায়ে তার হাতে থাকা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও দাবি করেন।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য, ওই সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনকেও মারধর করা হয়। হাটে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি বিষয়টির প্রতিবাদ করতে এগিয়ে এলে তাদের সঙ্গেও অভিযুক্তরা অসদাচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তিলেকপুর হাটে পণ্য বিক্রি করতে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছ থেকে খাজনার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে অনেকেই ঝামেলা এড়াতে প্রতিবাদ না করে অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য হন বলে দাবি করেছেন তারা।

তাদের মতে, হাটের খাজনা আদায়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত হার ও নিয়ম সবার জন্য স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন। নির্ধারিত নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হলে তা সাধারণ ব্যবসায়ী ও কৃষকদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাট এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে পরে পরিস্থিতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী দাবি করেন, খাজনা আদায়ের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয়রা বলছেন, হাটের ইজারা, খাজনা আদায়ের নির্ধারিত হার এবং আদায়ের প্রক্রিয়া প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা হলে এ ধরনের অভিযোগ কমতে পারে। পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

এ বিষয়ে তিলেকপুর হাটের সংশ্লিষ্ট ইজারাদার বা খাজনা আদায়কারীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন যেন বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি হাটে স্বচ্ছভাবে খাজনা আদায়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page