দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকি মূল্যে খাদ্যপণ্য সরবরাহ কার্যক্রম আরও জোরদার করছে সরকার। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কার্ডধারীদের জন্য স্থানীয় উৎস থেকে আরও ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন-টিসিবি ডিলার নিয়োগ এখন পুরোপুরি অনলাইনে, ঘরে বসেই আবেদন করার সুযোগ
বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন পায়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীর নাবিল নবা ফুডস লিমিটেড প্রতি কেজি ৮২ টাকা ৫৪ পয়সা দরে এই মসুর ডাল সরবরাহ করবে। পুরো ক্রয় প্রক্রিয়ায় সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৮২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
কেন কিনছে সরকার এত বিপুল পরিমাণ ডাল?
টিসিবির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং জেলা পর্যায়ে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর কাছে নিয়মিত ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি করা হয়।
প্রতিমাসে টিসিবির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গড়ে প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডালের প্রয়োজন হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ২ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এরই মধ্যে এক লাখ ৩৯ হাজার ২৭২ মেট্রিক টন ডাল সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকি চাহিদা পূরণের অংশ হিসেবে নতুন করে ১০ হাজার মেট্রিক টন ডাল কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাজারদরের চেয়েও কম দামে ডাল কিনছে টিসিবি
দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রাক্কলিত মূল্য ছিল প্রতি কেজি ৮৭ টাকা ৩৭ পয়সা।
কিন্তু নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান প্রতি কেজি ৮২ টাকা ৫৪ পয়সা দরে সরবরাহ করতে রাজি হয়েছে।
অর্থাৎ—
• প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে প্রতি কেজিতে ৪ টাকা ৮৩ পয়সা কম।
• বাজারদরের তুলনায় প্রতি কেজিতে ১ টাকা ৪৬ পয়সা কম।
• আমদানি করা ডালের তুলনায়ও খরচ কম পড়ছে।
সরকারের মতে, এতে একদিকে যেমন ব্যয় কমবে, অন্যদিকে টিসিবির পণ্য সরবরাহও স্বাভাবিক থাকবে।
কারা টিসিবির ভর্তুকি মূল্যের পণ্য পান?
বর্তমানে টিসিবির বিশেষ কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো ভর্তুকি মূল্যে পণ্য কিনতে পারেন।
সাধারণত—
• নিম্ন আয়ের পরিবার।
• দিনমজুর।
• শ্রমজীবী মানুষ।
• অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবার।
• সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাভুক্ত কিছু পরিবার।
স্থানীয় প্রশাসনের যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে এসব সুবিধাভোগীর তালিকা প্রস্তুত করা হয়।
টিসিবি কার্ড করার জন্য কী কী লাগে?
বর্তমানে টিসিবি কার্ডের জন্য আলাদা অনলাইন আবেদন ব্যবস্থা সব এলাকায় চালু নেই। সাধারণত স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হয়।
যাচাইয়ের সময় প্রয়োজন হতে পারে—
• জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)।
• মোবাইল নম্বর।
• স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা।
• পারিবারিক তথ্য।
• আয়ের তথ্য।
স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত তথ্যও চাইতে পারে।
নতুন করে টিসিবি কার্ডের আবেদন করা যায়?
অনেক এলাকায় নতুন সুবিধাভোগী অন্তর্ভুক্তির সময় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
তাই কেউ টিসিবির সুবিধা পেতে আগ্রহী হলে নিজের এলাকার—
• ইউনিয়ন পরিষদ।
• পৌরসভা।
• সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়।
এর সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ তথ্য জেনে নিতে পারেন।
টিসিবি কার্ডধারীরা কী কী সুবিধা পান?
টিসিবি কার্ডের মাধ্যমে সাধারণ বাজারমূল্যের তুলনায় কম দামে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা যায়।
এর মধ্যে রয়েছে—
• মসুর ডাল।
• চিনি।
• ভোজ্যতেল।
• ছোলা।
• অন্যান্য নির্বাচিত পণ্য।
বিশেষ করে রমজান মাস ও বিভিন্ন উৎসবের আগে এসব কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়।
উপসংহার
নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম সচল রাখতে আবারও ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। টিসিবির কার্ডধারীরা এই ডাল ভর্তুকি মূল্যে কিনতে পারবেন। একই সঙ্গে যাদের এখনো টিসিবি কার্ড নেই, তারা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে নতুন তালিকাভুক্তির সুযোগ সম্পর্কে তথ্য নিতে পারেন।
আরও পড়ুন-টিসিবি কার্ড করতে কী কী লাগে জানুন নতুন নিয়ম কাগজপত্র ও আবেদন পদ্ধতি





