স্বামীর অনুমতি ছাড়া পকেট থেকে টাকা নেওয়া কি বৈধ? ইসলাম যা বলছে

ধর্ম বিষয়ক প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ
স্বামীর অনুমতি ছাড়া পকেট থেকে টাকা নেওয়া কি বৈধ? ইসলাম যা বলছে

স্বামীর সম্পদ, স্ত্রীর অধিকার ও প্রয়োজনীয় খরচ নিয়ে ইসলামের দিকনির্দেশনা।

স্বামীর পকেট বা সম্পদ থেকে তার অনুমতি ছাড়া টাকা নেওয়া যাবে কি না—এ বিষয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে সংসারের প্রয়োজন, স্ত্রীর অধিকার এবং স্বামীর দায়িত্বের বিষয়টি সামনে এলে এ প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ইসলামি শরিয়তে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, যেখানে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকার ও দায়িত্বের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইসলামি আলেমদের মতে, স্ত্রীর ভরণ-পোষণ, প্রয়োজনীয় খরচ এবং জীবনযাপনের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা স্বামীর দায়িত্ব। তবে কোনো স্বামী যদি ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রীর প্রয়োজনীয় খরচ না দেন বা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন, তাহলে বিশেষ পরিস্থিতিতে স্ত্রী নিজের ও সন্তানের প্রয়োজন মেটানোর জন্য স্বামীর সম্পদ থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ নিতে পারবেন।

প্রয়োজনীয় খরচের ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া নেওয়ার বিধান
হাদিসে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত হিন্দ বিনতে উতবা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে অভিযোগ করেন যে, তার স্বামী আবু সুফিয়ান (রা.) প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ দেন না। ফলে তিনি স্বামীর অজান্তে কিছু অর্থ নিয়ে থাকেন।

তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নিজের ও সন্তানের প্রয়োজন মেটানোর মতো পরিমাণ অর্থ নেওয়া যেতে পারে। (সহিহ বুখারি: ৩৮২৫, সহিহ মুসলিম: ১৭১৪)

এই হাদিস থেকে ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্বামী যদি দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন এবং স্ত্রী-সন্তানের প্রয়োজনীয় ব্যয় না দেন, তাহলে প্রয়োজনের সীমার মধ্যে অর্থ নেওয়া বৈধ হতে পারে।

প্রয়োজনের বাইরে অর্থ নেওয়া যাবে না
তবে এই অনুমতির নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। স্বামীর অজান্তে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া, বিলাসী জীবনযাপন, অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কিংবা ব্যক্তিগত শখ পূরণের জন্য অর্থ গ্রহণ ইসলামি দৃষ্টিতে বৈধ নয়।

আলেমদের মতে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত গোপনে অর্থ নেওয়া আমানতের খেয়ানতের অন্তর্ভুক্ত। কারণ স্বামীর সম্পদের ওপর স্ত্রীর অধিকার থাকলেও তা সীমাহীন নয়।

স্বামীর দায়িত্ব শুধু খরচ দেওয়া নয়
ইসলামে স্বামীকে পরিবারের দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তাই শুধু খাবার, পোশাক ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করাই নয়; স্ত্রীর প্রয়োজন ও মানসিক স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইসলামি মনীষীদের মতে, স্বামীর সামর্থ্য অনুযায়ী স্ত্রীকে ব্যক্তিগত খরচের জন্য কিছু অর্থ দেওয়া উত্তম। এতে স্ত্রী নিজের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সহজে পূরণ করতে পারেন এবং দাম্পত্য সম্পর্কে পারস্পরিক আস্থা ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়।

হাকিমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) উল্লেখ করেছেন, স্ত্রীর অন্যতম অধিকার হলো—স্বামী তাকে এমন কিছু অর্থ দেবেন, যা তিনি নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যয় করতে পারবেন। এর পরিমাণ নির্ভর করবে স্বামীর আর্থিক সক্ষমতা ও স্ত্রীর প্রয়োজনের ওপর। (মুনতাখাব আনমোল মোতি)

তিনি আরও বলেন, অনেক নারীর নিজস্ব আয় বা সম্পদ থাকে না। তাই মোহরানা ও প্রয়োজনীয় ভরণ-পোষণের পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী স্ত্রীকে নিয়মিত কিছু অর্থ দেওয়া স্বামীর জন্য উত্তম, যাতে তিনি নিজের প্রয়োজন পূরণ করতে পারেন। (তোহফায়ে যাওজাইন)

দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক সম্মান জরুরি
ইসলামে পরিবারকে ভালোবাসা, দায়িত্ব ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বামী যেমন স্ত্রীর প্রয়োজন পূরণের দায়িত্ব পালন করবেন, তেমনি স্ত্রীও স্বামীর সম্পদ ও অধিকারকে সম্মান করবেন।

তাই স্বামীর অনুমতি ছাড়া অর্থ নেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে পরিস্থিতির ওপর। প্রয়োজনীয় অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে ইসলাম সহজতা দিয়েছে, তবে অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত গ্রহণকে সমর্থন করে না।

সুন্দর দাম্পত্য সম্পর্কের জন্য স্বামী-স্ত্রী উভয়ের উচিত একে অপরের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সংসার পরিচালনা করা।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page