শিশুসন্তানদের সামনে মাকে ধর্ষণের অভিযোগ, বিচার না পেয়ে বাসের নিচে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা

প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ণ
শিশুসন্তানদের সামনে মাকে ধর্ষণের অভিযোগ, বিচার না পেয়ে বাসের নিচে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা

গাজীপুরের শ্রীপুরে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে

গাজীপুরের শ্রীপুরে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে দুই শিশুসন্তানের সামনে ২৫ বছর বয়সী এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সোহরাব হোসেন নামের এক পানদোকানির বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার রাতে মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিচার না পেয়ে সন্তানদের নিয়ে বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে একটি পানের আড়তে নিয়ে যান। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা-পুলিশ সেখানে গিয়ে ওই নারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে। পরে ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে যায় পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর করা মামলায় একজনকে আসামি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী শ্রীপুর উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। স্বামী তাঁকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর দুই সন্তানকে নিয়ে শ্রীপুরের একটি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। জীবিকা নির্বাহের জন্য আশপাশের এলাকায় ভিক্ষা করতেন।

ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক মাসের বাড়িভাড়া বকেয়া থাকায় মঙ্গলবার রাতে বাড়ির মালিক তাঁকে দুই সন্তানসহ ঘর থেকে বের করে দেন। এরপর সন্তানদের নিয়ে তিনি মাওনা চৌরাস্তার উড়ালসড়কের নিচে বসে ছিলেন। এ সময় সোহরাব হোসেন নামের ওই পানদোকানি তাঁর কাছে এসে সমস্যার কথা জানতে চান।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরে আশ্রয় ও টাকা দেওয়ার কথা বলে সোহরাব তাঁকে চৌরাস্তার পূর্ব পাশে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে দুই শিশুসন্তানের সামনে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর সাড়ে তিন বছর বয়সী ছেলে বিষয়টি বুঝতে পারছিল। সন্তানকে তাঁর বুক থেকে সরিয়ে নিয়ে তাঁর সঙ্গে জোর করে খারাপ কাজ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার পর ওই নারী স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিষয়টি জানিয়ে বিচার চান। তবে তাঁর অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা বিচার না করে তাঁকে ৫০০ টাকা দিয়ে চলে যেতে বলেন। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। লোকজন দেখে ফেলায় তাঁকে উদ্ধার করে পানের আড়তে নিয়ে যাওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পানের আড়তে গিয়ে দেখা যায়, এক শিশুকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন ওই নারী। ঘটনাস্থলে শ্রীপুর থানার তিন পুলিশ সদস্যও ছিলেন। এ সময় তিনি বারবার নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের কথা জানিয়ে বিচার চাইছিলেন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করে পুলিশ। ওই নারীকে নিয়েও থানায় যায় পুলিশ।

স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো. শফিকুল বলেন, পানের আড়তের পাশে সোহরাব নামের এক ব্যক্তি একটি পানের দোকান চালাতেন। ঘটনার পর বর্তমানে তাঁর দোকানটি বন্ধ রয়েছে।

অভিযুক্ত সোহরাব হোসেনের বাড়ি নেত্রকোনায়। মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় তিনি পানদোকান চালাতেন। অভিযোগ ওঠার পর তিনি পালিয়ে যাওয়ায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম শুক্রবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় একজনকে আসামি করে ধর্ষণের মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ভুক্তভোগী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রক্রিয়াও চলমান।

আটক দুজনের বিষয়ে ওসি বলেন, স্থানীয় লোকজন তাঁদের ধরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁদের ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে – ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page