বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন বাজারে নতুন করে ধাক্কার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চলতি বছরে স্মার্টফোন বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে কমতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়া। তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত চাপে পড়ে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে বড় ধরনের মন্দা তৈরি হতে যাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ফেসবুকের মেমোরিজ বন্ধ করবেন কীভাবে ৩ সেটিংসে নিয়ন্ত্রণের সহজ উপায়
ওমডিয়ার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন সরবরাহ প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে মেমোরি চিপের উচ্চমূল্য, সরবরাহ ঘাটতি এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে একটি স্মার্টফোন তৈরির খরচের বড় অংশই চলে যাচ্ছে মেমোরি চিপের পেছনে। গত কয়েক বছরে এই চিপের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো লাভ ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।
এ অবস্থায় অনেক স্মার্টফোন কোম্পানি ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকেই তাদের পণ্যের দাম বাড়াতে শুরু করেছে। দাম বৃদ্ধির এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য নতুন ফোন কেনা আরও কঠিন হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এর প্রভাব বেশি পড়তে পারে। এসব বাজারে ক্রেতারা তুলনামূলকভাবে দামের প্রতি বেশি সংবেদনশীল। ফলে দাম বাড়লে তারা নতুন ফোন কেনা থেকে বিরত থাকতে পারেন। এতে করে বাজারে চাহিদা কমে গিয়ে বিক্রি আরও হ্রাস পেতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে যদি মেমোরি চিপের দাম একইভাবে বাড়তে থাকে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সার্ভারের জন্য চিপের চাহিদা বাড়ায় সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে স্মার্টফোন বিক্রি ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এই সম্ভাব্য মন্দা ২০২২ সালের বাজার সংকটকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। তখনও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে স্মার্টফোন বিক্রিতে বড় ধাক্কা লেগেছিল।
এছাড়া বিশ্বরাজনীতির অস্থিরতাও বাজারে প্রভাব ফেলছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় আরও বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে প্রযুক্তি পণ্যের বাজারে।
ওমডিয়ার প্রধান বিশ্লেষক জাকের লি জানিয়েছেন, সব ধরনের স্মার্টফোনে এই প্রভাব সমানভাবে পড়বে না। বিশেষ করে কম দামের ফোনগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
তার মতে, ১০০ ডলার বা এর কম দামের স্মার্টফোনের বিক্রি প্রায় ৩১ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। কারণ এই ধরনের ফোনে লাভের পরিমাণ খুবই কম থাকে। ফলে যন্ত্রাংশের দাম বাড়লে উৎপাদকদের পক্ষে এই সেগমেন্টে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে চিত্র কিছুটা ভিন্ন। ৮০০ ডলারের বেশি দামের ফোনের বাজার বরং ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। কারণ উচ্চমূল্যের ফোন ব্যবহারকারীরা সাধারণত দামের পরিবর্তনে কম প্রভাবিত হন।
এছাড়া বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন অ্যাপল ও স্যামসাং শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে এই সংকট তুলনামূলক ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে স্মার্টফোন নির্মাতারা নতুন কৌশল গ্রহণ করছে। অনেক কোম্পানি উৎপাদন কমিয়ে আনছে এবং একই সঙ্গে নতুন মডেলের সংখ্যা সীমিত করার পরিকল্পনা করছে। এতে করে খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছে।
তবে এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর। ভবিষ্যতে কম দামে ভালো মানের স্মার্টফোন পাওয়া আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে। প্রযুক্তি বাজারের এই পরিবর্তন ভোক্তাদের ক্রয় আচরণেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার সম্মিলিত প্রভাবে স্মার্টফোন বাজার একটি অনিশ্চিত সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি কতটা দ্রুত স্বাভাবিক হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে চিপ বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর।
আরও পড়ুন- Samsung Galaxy A57 5G বাংলাদেশেঃ শক্তিশালী Exynos 1680, EMI অফার ও আকর্ষণীয় দাম
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔







