ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা রাজপথে, সরকারের দ্বিচারিতার অভিযোগ ইসলামী আন্দোলনের
ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা রাজপথে, সরকারের দ্বিচারিতার অভিযোগ ইসলামী আন্দোলনের
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন ও অনশন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সরকারের সমালোচনা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেছেন, একদিকে বাজেটে শিক্ষা খাতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে ন্যায্য দাবিতে শিক্ষকরা রাজপথে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছেন। এটি সরকারের নীতির সঙ্গে বাস্তবতার অসামঞ্জস্য এবং দ্বিচারিতার উদাহরণ।
রোববার এক বিবৃতিতে তিনি এসব মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে ইউনুস আহমদ বলেন, জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় শিক্ষা খাতের উন্নয়ন নিয়ে নানা আশাব্যঞ্জক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের দাবি আদায়ে আমরণ অনশন পর্যন্ত করতে হচ্ছে, যা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি সরকারের দায়িত্বহীন মনোভাবেরই প্রতিফলন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব শিক্ষকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, শিক্ষকদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু টানা কয়েক দিন ধরে অনশন চললেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ কিংবা সরাসরি যোগাযোগের উদ্যোগ দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দাবি আদায়ে আন্দোলন করেও আশানুরূপ সাড়া না পাওয়ায় শিক্ষকরা শেষ পর্যন্ত লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন। সরকারের দায়িত্ব ছিল দ্রুত তাদের সঙ্গে সংলাপে বসে সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে বের করা।
বিবৃতিতে ইউনুস আহমদ শিক্ষক নেতাদের উদ্ধৃত করে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় শূন্য পদে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বেতন ছাড়ের বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দিলেও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এখনো কোনো শিক্ষকের বেতন ছাড় করেনি। ফলে প্রায় ১ হাজার ৬৯০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা ছাড়া মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তার মতে, শিক্ষকদের এই পরিস্থিতি শুধু তাদের ব্যক্তিগত সংকট নয়, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যও উদ্বেগজনক। কারণ যারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষিত করার দায়িত্ব পালন করেন, তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব সরকারের প্রতি দ্রুত অনশনরত শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন। এতে যেমন চলমান সংকটের সমাধান হবে, তেমনি শিক্ষা অঙ্গনে স্থিতিশীলতাও ফিরে আসবে।
বিবৃতির শেষাংশে ইউনুস আহমদ বলেন, “মানুষ গড়ার কারিগরদের রাজপথে অনশন করতে হওয়া জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।” তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান।
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকদের আন্দোলন নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।
আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

আপনার মতামত লিখুন
Array