ক্যান্সার ফিরে আসা রুখল নতুন ভ্যাকসিন, আশার আলো দেখছেন বিজ্ঞানীরা

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
ক্যান্সার ফিরে আসা রুখল নতুন ভ্যাকসিন, আশার আলো দেখছেন বিজ্ঞানীরা

এমআরএনএ প্রযুক্তির ব্যক্তিগত ভ্যাকসিনে ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন আশা

ত্বকের ক্যান্সারের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে বিজ্ঞানীদের তৈরি একটি ব্যক্তিগত ভ্যাকসিন। বিশেষ এক ক্যান্সার প্রতিরোধী ওষুধের সঙ্গে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে রোগীদের শরীরে ক্যান্সার পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকি কমানোর আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে।

ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান মার্ক ও মডার্নার যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই ভ্যাকসিনটি অস্ত্রোপচারের পর উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা মেলানোমা আক্রান্ত রোগীদের ওপর প্রয়োগ করা হয়। প্রাথমিক গবেষণার ফল অনুযায়ী, শুধু প্রচলিত চিকিৎসার তুলনায় ভ্যাকসিন ও ওষুধের সমন্বিত ব্যবহারে রোগীরা দীর্ঘ সময় ক্যান্সারমুক্ত থাকতে পেরেছেন।

তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, এই সুরক্ষা কতদিন স্থায়ী হবে তা জানতে আরও দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। পাশাপাশি চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল্যায়ন ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনাও গুরুত্বপূর্ণ।

কীভাবে কাজ করে ব্যক্তিগত ক্যান্সার ভ্যাকসিন?

‘ইন্টিসমেরান’ নামের এই ভ্যাকসিনটি ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইমিউনোথেরাপি ওষুধ ‘কিট্রুডা’-র সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, এই দুটি চিকিৎসা একসঙ্গে প্রয়োগ করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও কার্যকরভাবে ক্যান্সার কোষ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে পারে।

এই ভ্যাকসিনকে বলা হচ্ছে ‘পারসোনালাইজড’ বা ব্যক্তিগত ভ্যাকসিন। কারণ এটি সবার জন্য একইভাবে তৈরি করা হয় না। প্রতিটি রোগীর টিউমারের ধরন ও জেনেটিক পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে আলাদাভাবে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।

প্রথমে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রোগীর টিউমারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ক্যান্সার কোষের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করা হয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয় রোগীর জন্য বিশেষ ভ্যাকসিন।

এই ভ্যাকসিন রোগীর ইমিউন সিস্টেমকে প্রশিক্ষিত করে, যাতে শরীরে থেকে যাওয়া ক্যান্সার কোষ শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে।

ট্রায়ালে অংশ নিয়েছেন এক হাজারের বেশি রোগী

এই ভ্যাকসিনের তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এক হাজারের বেশি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ মেলানোমা রোগী অংশ নিয়েছেন। এসব রোগীর মধ্যে বড় টিউমার থাকা বা শরীরের অন্য অংশে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার মতো জটিলতাও ছিল।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, ভ্যাকসিন ব্যবহারের পর রোগীদের ক্যান্সার পুনরায় ফিরে আসার সম্ভাবনা কমেছে এবং অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও হ্রাস পেয়েছে।

ক্যান্সারের অন্য চিকিৎসাতেও ব্যবহারের সম্ভাবনা
বিজ্ঞানীরা এখন শুধু ত্বকের ক্যান্সার নয়, ফুসফুস, মূত্রথলি ও কিডনি ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যক্তিগত ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা পরীক্ষা করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গবেষণা সফল হলে ক্যান্সার চিকিৎসায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে। ভবিষ্যতে রোগীর শরীরের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট চিকিৎসা দেওয়ার পথ আরও বিস্তৃত হবে।

তবে চিকিৎসাবিদরা বলছেন, গবেষণার ফল আশাব্যঞ্জক হলেও সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য এটি এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page