ধনী হওয়ার উপায় জানানো লেখকের নিজেরই ঋণ ১.২ বিলিয়ন ডলার
ঋণ নিয়েই সম্পদ গড়ার কৌশল
বিশ্বখ্যাত আর্থিক পরামর্শমূলক গ্রন্থ ‘রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড’-এর লেখক রবার্ট কিওসাকি প্রায় ১২০ কোটি মার্কিন ডলার (১.২ বিলিয়ন ডলার) ঋণের মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তবে এই বিপুল পরিমাণ দেনাকে তিনি কোনো আর্থিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন না। বরং সম্পদ তৈরি ও আয় বাড়ানোর কৌশলের অংশ হিসেবেই ঋণ ব্যবহার করছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
সম্প্রতি ‘গেট রিচ এডুকেশন’ শীর্ষক এক পডকাস্টে কিওসাকি নিজের ঋণের পরিমাণ উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলারের ঋণে আছি।’ তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, আর্থিক জ্ঞান ছাড়া সাধারণ মানুষের তার এই কৌশল অনুসরণ করা উচিত নয়।
কিওসাকি বলেন, ১৯৭৪ সাল থেকে তিনি ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত পড়াশোনা করেছেন। তার মতে, ঋণকে যদি সম্পদ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হয়, তাহলে আগে এ বিষয়ে সঠিক শিক্ষা নেওয়া জরুরি।
কিওসাকির সাবেক স্ত্রী ও ব্যবসায়িক অংশীদার কিম কিওসাকি জানিয়েছেন, ১.২ বিলিয়ন ডলারের এই ঋণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে।
তার দাবি, এটি রবার্ট কিওসাকির ব্যক্তিগত দায় নয়। বরং অংশীদারদের সঙ্গে যৌথ মালিকানাধীন প্রায় ১ হাজার ৫০০টি অ্যাপার্টমেন্ট ও আবাসন প্রকল্পের বিপরীতে নেওয়া ঋণ।
কিম কিওসাকি বলেন, বড় অঙ্কের এই ঋণের কথা রবার্ট কিওসাকি প্রায়ই উল্লেখ করেন, যাতে মানুষ বিনিয়োগভিত্তিক ঋণের ধারণা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়।
রবার্ট কিওসাকির বিনিয়োগ কৌশলের বড় অংশজুড়ে রয়েছে রিয়েল এস্টেট বা আবাসন খাত।
তার কৌশল অনুযায়ী, কোনো সম্পত্তির মূল্য বাড়লে সেই বাড়তি ইক্যুইটির বিপরীতে ব্যাংক থেকে নতুন ঋণ নেওয়া হয়। পরে সেই অর্থ নতুন বিনিয়োগে ব্যবহার করা হয়।
এ ছাড়া সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি কমাতে তিনি প্রতিটি বিনিয়োগ আলাদা আলাদা লিমিটেড লায়াবিলিটি কোম্পানি (এলএলসি)-এর অধীনে রাখেন বলে জানা গেছে।
কিওসাকির ভাষ্য অনুযায়ী, ধনী ব্যক্তিরা এভাবেই বিভিন্ন সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করে ব্যবসা পরিচালনা করেন।
তবে সাময়িকী ভ্যানিটি ফেয়ার-এর হিসাব অনুযায়ী, কিওসাকির ব্যক্তিগত অংশের ঋণের পরিমাণ আনুমানিক ৩ কোটি থেকে ৬ কোটি ডলারের মধ্যে হতে পারে। তার বার্ষিক আয় প্রায় ৩০ লাখ ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিওসাকির ঋণ কৌশল নিয়ে আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে রয়েছে ভিন্ন মত।
ট্যাক্স পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ট্যাক্স ম্যাভেরিক এআই-এর প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড এ. পেরেজ বলেন, রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগে বড় অঙ্কের ঋণ থাকা অস্বাভাবিক নয়। কর সুবিধার ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর হতে পারে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বড় ঋণের সঙ্গে বন্ধক, সুদ পরিশোধ এবং নগদ প্রবাহের চাপও তৈরি হয়।
অন্যদিকে জেপিটিডি পার্টনার্স-এর প্রতিষ্ঠাতা জন পুল বলেন, ঋণ কখনো সম্পদ তৈরির মাধ্যম হতে পারে, আবার ভুল ব্যবস্থাপনায় বড় আর্থিক বিপর্যয়ের কারণও হতে পারে।
তার মতে, সম্পদের মূল্য বাড়তে থাকলে ঋণ ভালো ফল দিতে পারে, কিন্তু বাজারের পরিস্থিতি খারাপ হলে একই ঋণ বড় ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।
রবার্ট কিওসাকি ১৯৯৭ সালে প্রথম প্রকাশ করেন ‘রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড’ বইটি। বইটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং এখন পর্যন্ত ৪ কোটি ৪০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বইটিতে তিনি প্রচলিত চাকরিনির্ভর আর্থিক চিন্তার সঙ্গে বিনিয়োগ, সম্পদ তৈরি ও আর্থিক স্বাধীনতার ধারণার তুলনা তুলে ধরেছেন।
পরবর্তীতে আর্থিক শিক্ষাভিত্তিক বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি নিজের পরিচিতি আরও বিস্তৃত করেন। ২০০৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যৌথভাবে **‘হোয়াই উই ওয়ান্ট ইউ টু বি রিচ’**সহ দুটি বইও লেখেন তিনি।
রবার্ট কিওসাকির বিশাল ঋণের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এনেছে—ধনী ব্যক্তিদের বিনিয়োগ কৌশলে ঋণের ভূমিকা কতটা কার্যকর এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য এর ঝুঁকি কতটা।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
