আ.লীগ ও ভারতের সঙ্গে গোপনে আঁতাত জামায়াতের: রাশেদ খান
ঝিনাইদহে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
আওয়ামী লীগ ও ভারতের সঙ্গে গোপন আঁতাত করে জামায়াতে ইসলামী দেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি বলেন, জামায়াতের একের পর এক লংমার্চ কর্মসূচির ঘোষণা সেই ষড়যন্ত্রের অংশ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ঝিনাইদহে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ শেষে ঝিনাইদহ সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে স্থানীয়দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন রাশেদ খান। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকট ও জামায়াতের ঘোষিত কর্মসূচি নিয়ে কথা বলেন।
রাশেদ খান বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট দেশের জাতীয় সমস্যা। এ সংকট উত্তরণে সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলেরও গঠনমূলক ভূমিকা প্রয়োজন। কিন্তু বিরোধী দল গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে লংমার্চ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, লংমার্চ করে এই সংকটের কী ধরনের সমাধান হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, স্বার্থের প্রয়োজনে জামায়াত তাদের কথিত শত্রুদের সঙ্গেও আঁতাত করতে পারে। ভারতের সঙ্গে আঁতাত করে আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর জন্য জামায়াত অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগের ভাষা ও জামায়াতের আমিরের বক্তব্য একই সূত্রে গাঁথা।
ভারতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য দেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সফরের জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও তিনি সেখানে যাননি। পলাতক শেখ হাসিনা ও শহীদ ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন না বলে জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
রাশেদ খান আরও বলেন, একই ধরনের অনুরোধ যদি ভারত জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে করত, তাহলে এতদিনে তিনি দিল্লিতে অবস্থান করতেন।
জামায়াতের ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচির প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকার কাজ করছে। এর মধ্যেই জামায়াতসহ বিরোধী দল চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করেছে এবং এখন রংপুরের উদ্দেশে আবার লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, জামায়াতের এসব কর্মসূচি এবং আওয়ামী লীগের ডিসেম্বরে ফেরার ঘোষণা দেশকে অশান্ত করার অপচেষ্টা।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে দ্বিতীয় লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে প্রথম লংমার্চ কর্মসূচি পালন করেছে জোটটি। রংপুরের কর্মসূচিতে ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুর জিলা স্কুল পর্যন্ত মানবপ্রাচীর গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।
রাশেদ খান জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও চরিত্র সম্পর্কে জানার আহ্বান জানান।
এ সময় ঝিনাইদহসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের জনবল সংকট নিরসন এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। পরে স্থানীয় শিশু-কিশোরদের সঙ্গে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী।
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা, যুগ্ম সম্পাদক এম শাহজাহান আলী, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সমীনুজ্জামান সমীন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে জামায়াতে ইসলামী ও ভারতের মধ্যে গোপন আঁতাত এবং আওয়ামী লীগকে ফেরানোর ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ রাশেদ খান করেছেন, তার পক্ষে তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বা নথি উপস্থাপন করেছেন—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট নেতার অভিযোগ হিসেবেই বিবেচ্য।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
