রাণীনগরে সমবায়ীদের উদ্যোগে সবুজায়নে বৃক্ষরোপণ
রাণীনগরে সমবায়ীদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় নওগাঁর রাণীনগরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও দেশব্যাপী সবুজায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা সমবায় অফিসের উদ্যোগে এবং অলংকারদীঘি সমবায় সমিতির আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বৃক্ষরোপণ করেন রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল হাসান। এ সময় উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. জাফরুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামসহ অলংকারদীঘি সমবায় সমিতির সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সমবায়ী সদস্যরা বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। আয়োজকরা জানান, শুধু গাছ লাগানোর মধ্যেই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্দেশ্য সীমাবদ্ধ নয়। রোপণ করা প্রতিটি চারার নিয়মিত পরিচর্যা, পানি দেওয়া, বেড়া দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংরক্ষণের মাধ্যমে সেগুলোকে বড় করে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করাই এ ধরনের কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।
প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান বলেন, একটি গাছ শুধু পরিবেশের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, মানুষের জীবন ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও সমবায়ী সংগঠনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে রোপণ করা গাছ যাতে নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথিরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও নানা ধরনের পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষের গুরুত্ব অপরিসীম। গাছ বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন শোষণ করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি গাছ মানুষের জন্য অক্সিজেন, ছায়া, ফল ও কাঠসহ বিভিন্ন উপকার নিশ্চিত করে।
তারা আরও বলেন, পরিকল্পিতভাবে রাস্তার পাশে, বাড়ির আঙিনায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, পতিত জমি এবং উপযুক্ত খোলা জায়গায় বৃক্ষরোপণ করা গেলে স্থানীয় পরিবেশ আরও সবুজ ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। তবে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বড় গাছ সংরক্ষণ এবং অপরিকল্পিতভাবে গাছ কাটা বন্ধ করাও জরুরি।
উল্লেখ্য, সরকার দেশব্যাপী আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর মাধ্যমে এ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৯ জুলাই জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধন করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে। রাণীনগরের এ কর্মসূচির মাধ্যমে সমবায়ী সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণের বিষয়ে সচেতনতা বাড়বে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
কর্মসূচির শেষে অংশগ্রহণকারীরা রোপণ করা চারাগুলোর পরিচর্যা ও সংরক্ষণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
