প্রতিটি জেলা-উপজেলায় হবে প্রতিবন্ধী স্কুল: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
প্রতিটি জেলা-উপজেলায় হবে প্রতিবন্ধী স্কুল: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় পর্যায়ক্রমে প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।

দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় পর্যায়ক্রমে একটি করে প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বর্তমানে দেশে ৮৫টি প্রতিবন্ধী স্কুল চালু রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিশেষ অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শুধু প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠা করলেই হবে না, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের সংখ্যাও বাড়াতে হবে। এ বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের শিক্ষা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শুধু সুরক্ষার আওতায় রাখতে চায় না; তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্যও বাস্তবমুখী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পরিবারগুলোর নানা সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, এসব পরিবারের অনেক অভিভাবক সন্তান লালন-পালনের কারণে স্বাভাবিক কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হতে পারেন না। তাঁদের জন্য ঘরে বসে বা উপযোগী পরিবেশে আয় করার সুযোগ তৈরির বিষয়েও সরকার কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা তাঁদের ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর দাবি জানান। তাঁদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে মন্ত্রী ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব মো. কামরুজ্জামান (দুলাল)।

ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতার হার বাড়ানোর পাশাপাশি উপকারভোগীর সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের (এনডিডি) মাধ্যমে দেওয়া অর্থের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। আগে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা দেওয়া হলেও বর্তমানে তা ১১ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং উপকারভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে মন্ত্রী ৯২ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে বিশেষ অনুদানের চেক তুলে দেন।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ানো এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page