দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য এসেছে নতুন খবর। পঞ্চম শ্রেণি সমাপনী পর্যায়ের এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় সাড়ে ৬ লাখ শিক্ষার্থীর ফলাফল খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফল প্রকাশের সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় ফলাফলের তথ্য শতভাগ নির্ভুল রাখতে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ কারণে ফল প্রকাশে কিছুটা সময় লাগলেও শিক্ষার্থীদের স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত ফল নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন- শিক্ষার মান উন্নয়নে বাড়ছে হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার বৃত্তি পরীক্ষায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। পরীক্ষার ফল প্রস্তুতের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি-নির্ভর আইপিইএমআইএস (IPEMIS) প্ল্যাটফর্মে ফলাফল আপলোড ও যাচাইয়ের কাজও চলছে। আইটি টিম দিনরাত কাজ করে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে।
এবার মোট ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তির জন্য নির্বাচিত করা হবে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ শতাংশ কোটা। ফলে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ৬৬ হাজার শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে। অন্যদিকে বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে, যেখানে ১৬ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তির সুযোগ পাবে।
বৃত্তি প্রদানের ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়েদের সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মোট বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ছেলে ও মেয়ের অনুপাত ৫০:৫০ রাখা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ গ্রেড—এই দুই ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হবে। ট্যালেন্টপুলে নির্বাচিত ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী মাসিক ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বৃত্তি পাবে। পাশাপাশি বছরে এককালীন ২২৫ টাকাও দেওয়া হবে।
অন্যদিকে সাধারণ গ্রেডে নির্বাচিত ৪৯ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী মাসিক ২২৫ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বৃত্তি পাবে। তাদেরও বছরে এককালীন ২২৫ টাকা দেওয়া হবে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এই আর্থিক সহায়তা চালু থাকবে।
এদিকে ভবিষ্যতে বৃত্তির অর্থ বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা আরও বাড়াতে বৃত্তির পরিমাণ দ্বিগুণ থেকে চার গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে।
ঘরে বসেই ফল দেখার ২টি সহজ উপায়
ফল প্রকাশের পর অভিভাবকেরা খুব সহজেই অনলাইন ও মোবাইল এসএমএস-এর মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবেন।
১. অনলাইনের মাধ্যমে রোল নম্বর দিয়ে
অনলাইনে রেজাল্ট দেখার সবচেয়ে সহজ ও অফিশিয়াল মাধ্যম হলো আইপিইএমআইএস পোর্টাল।
প্রথমে ভিজিট করুন অফিশিয়াল ওয়েবসাইট: ipemis.dpe.gov.bd/scholarship-results অথবা dpe.gov.bd।
পরীক্ষার সন সিলেক্ট করুন (প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা)।
শিক্ষার্থীর রোল নম্বর সঠিকভাবে ইনপুট দিন এবং ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করুন।
স্ক্রিনে শিক্ষার্থীর ফল (ট্যালেন্টপুল/সাধারণ/অযোগ্য) চলে আসবে। এখান থেকে জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক পিডিএফ মেধা তালিকাও ডাউনলোড করা যাবে।
২. মোবাইল এসএমএস এর মাধ্যমে
ইন্টারনেট কানেকশন না থাকলে বা সার্ভার ডাউন থাকলে যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে মেসেজ পাঠিয়ে রেজাল্ট জানা যাবে।
মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখুন: DPE <স্পেস> শিক্ষার্থীর রোল নম্বর এবং পাঠিয়ে দিন ১৬২২২ নম্বরে।
(উদাহরণ: DPE 123456 লিখে Send করুন 16222 নম্বরে। ফিরতি এসএমএস-এ ফলাফল চলে আসবে।)
সূত্র: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও দৈনিক শিক্ষাডটকম।
আরও পড়ুন- শিক্ষাক্ষেত্রে এআইয়ের বিস্ময়কর প্রভাব, বদলে যাচ্ছে শেখানো ও শেখার পুরো পদ্ধতি
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥







