দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরাসরি নিয়োগ ও পদোন্নতি—দুই প্রক্রিয়াই বর্তমানে আইনি জটিলতায় আটকে থাকায় সংকট আরও গভীর হচ্ছে। ফলে দেশের অর্ধেকের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখন স্থায়ী প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সূত্রে জানা গেছে, ১ হাজার ১২২টি প্রধান শিক্ষক পদের নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের প্রাথমিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে পুরো প্রক্রিয়া আপাতত বন্ধ রয়েছে।
আরও পড়ুন-দেশজুড়ে ৪৭১ জাল শিক্ষক শনাক্ত, আইনি ব্যবস্থা শুরু মাউশির
পিএসসির চেয়ারম্যান মোবাশ্বের মোনেম বলেন, মে মাসে আদালত থেকে ছয় মাসের স্থগিতাদেশ আসায় এখন পরীক্ষাটি নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আদালতের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন করা যাবে না।
তিনি আরও জানান, প্রায় ৭ লাখ আবেদনকারীর পরীক্ষা নিতে অন্তত ১১ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীর জন্য ঢাকা কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজনও বড় চ্যালেঞ্জ।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে অনুমোদিত প্রধান শিক্ষকের পদ রয়েছে ৬৫ হাজার ৪৫৭টি। এর মধ্যে বর্তমানে ৩৪ হাজার ১৫৯টি পদ শূন্য। অর্থাৎ দেশের অর্ধেকের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম তদারকিতেও তৈরি হচ্ছে বড় ধরনের ঘাটতি।
অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়াও বন্ধ রয়েছে। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক পদের ৮০ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ হওয়ার কথা। কিন্তু চলমান একটি মামলার কারণে সেই প্রক্রিয়াও আটকে আছে।
নতুন বিধিমালায় প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির জন্য সহকারী শিক্ষক হিসেবে অন্তত ১২ বছরের অভিজ্ঞতা, মৌলিক প্রশিক্ষণ এবং চাকরি স্থায়ীকরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, আদালতের মামলার কারণেই পদোন্নতি প্রক্রিয়া থেমে আছে। মামলার নিষ্পত্তি হলেই বড় আকারে পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হবে।
বর্তমানে অনেক বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে স্থায়ী নিয়োগ না থাকায় তারা পূর্ণ প্রশাসনিক ক্ষমতা পাচ্ছেন না।
গত বছরের ৩১ আগস্ট প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে শুরুতে ২ হাজার ১৬৯টি পদের কথা বলা হলেও পরে তা কমিয়ে ১ হাজার ১২২টি করা হয়। এই পদের বিপরীতে প্রায় ৭ লাখ আবেদন জমা পড়েছে। অর্থাৎ প্রতি পদের জন্য প্রতিযোগিতা করছেন গড়ে ৬২৪ জন প্রার্থী।
পিএসসি জানিয়েছে, নিয়োগ পরীক্ষা ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৯০ নম্বর লিখিত এবং ১০ নম্বর মৌখিক পরীক্ষা থাকবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষার মান ধরে রাখতে দ্রুত আইনি জটিলতা নিরসন করে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রম চালু করা জরুরি।
সূত্র: পিএসসি ও প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র
আরও পড়ুন- পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে এরশাদ ও হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা










