পটাশিয়ামের অভাবে শরীরে কী হয়? কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার জানুন
শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতি হলে ক্লান্তি, পেশিতে টান ও হৃদস্পন্দনের পরিবর্তনের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
পটাশিয়াম মানবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ এবং ইলেকট্রোলাইট। এটি শরীরের কোষ, পেশি, স্নায়ু এবং হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা কমে গেলে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হাইপোক্যালেমিয়া (Hypokalemia) নামে পরিচিত। অনেক সময় প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণ ক্লান্তি বা দুর্বলতা মনে হলেও, দীর্ঘদিন অবহেলা করলে এটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।
পটাশিয়ামের ঘাটতির সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও পেশির দুর্বলতা। শরীরে পর্যাপ্ত পটাশিয়াম না থাকলে পেশিগুলো স্বাভাবিকভাবে সংকোচন ও প্রসারণ করতে পারে না। ফলে সামান্য কাজেই ক্লান্তি, হাত-পায়ে শক্তি কমে যাওয়া কিংবা ভারী অনুভূতি তৈরি হতে পারে।
অনেকের ক্ষেত্রে পেশিতে টান ধরা বা ক্র্যাম্প দেখা দেয়। বিশেষ করে রাতে ঘুমের সময় পায়ের পেশিতে হঠাৎ টান ধরা পটাশিয়ামের ঘাটতির একটি লক্ষণ হতে পারে। এছাড়া শরীরে ঝিনঝিন ভাব বা অবশ অনুভূতিও দেখা দিতে পারে।
পটাশিয়ামের মাত্রা কমে গেলে হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হতে পারে। কখনো হৃদস্পন্দন দ্রুত হয়ে যায়, আবার কখনো ধীর বা অনিয়মিত অনুভূত হয়। যাদের আগে থেকেই হৃদরোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা বা হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ পটাশিয়াম অন্ত্রের পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রমেও ভূমিকা রাখে। এর অভাবে অন্ত্রের নড়াচড়া ধীর হয়ে যেতে পারে।
অনেকেই অতিরিক্ত দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা রক্তচাপ কমে যাওয়ার সমস্যায় ভুগতে পারেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব কিংবা মানসিক অস্থিরতাও দেখা দিতে পারে।
কেন পটাশিয়ামের ঘাটতি হয়?
পটাশিয়ামের ঘাটতির অন্যতম কারণ হলো দীর্ঘদিন ডায়রিয়া বা বমি হওয়া। এ সময় শরীর থেকে প্রচুর ইলেকট্রোলাইট বেরিয়ে যায়। এছাড়া অতিরিক্ত ঘাম, কিছু ডাইইউরেটিক (প্রস্রাব বাড়ানোর) ওষুধ, কিডনির কিছু রোগ, অপুষ্টি কিংবা দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার না খেলেও এই সমস্যা হতে পারে।
কী খাবেন?
পটাশিয়ামের ঘাটতি প্রতিরোধে খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন—
- কলা ।
- ডাবের পানি ।
- কমলা ।
- অ্যাভোকাডো ।
- পালং শাক ।
- আলু ।
- মিষ্টি আলু ।
- টমেটো ।
- ডাল ।
- শিম ।
- দই ।
- মাছ ।
এসব খাবারে প্রাকৃতিকভাবে পটাশিয়াম থাকে এবং সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে নিয়মিত খেলে শরীরের প্রয়োজনীয় পটাশিয়াম বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি দীর্ঘদিন ধরে পেশি দুর্বলতা, বারবার ক্র্যাম্প, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে নিজে থেকে পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন হলে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা নির্ণয় করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণও ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ শরীরে পটাশিয়াম অতিরিক্ত বেড়ে গেলেও হৃদযন্ত্রের জটিলতা দেখা দিতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, পটাশিয়াম শরীরের জন্য অপরিহার্য একটি খনিজ। সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ফল ও শাকসবজি গ্রহণ এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করানোর মাধ্যমে এই ঘাটতি প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
