ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হচ্ছে? এই ৫টি কারণ জানলে অবাক হবেন

reporter
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হচ্ছে? এই ৫টি কারণ জানলে অবাক হবেন

ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়ার ৫টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ

স্মার্টফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া এখন অনেক ব্যবহারকারীরই পরিচিত সমস্যা। সকালে পুরো চার্জ দেওয়ার পর কয়েক ঘণ্টা যেতে না যেতেই ব্যাটারি ৫০ শতাংশের নিচে নেমে যাচ্ছে—এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই রয়েছে। কেউ নতুন ফোনে এমন সমস্যার মুখোমুখি হন, আবার কারও পুরোনো ফোনে হঠাৎ করেই ব্যাটারি দ্রুত কমতে শুরু করে।

অনেকে মনে করেন, ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাওয়াই এর একমাত্র কারণ। কিন্তু বাস্তবে ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। কিছু সেটিংস, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার, ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকা অ্যাপ, দুর্বল নেটওয়ার্ক এবং ব্যাটারির স্বাভাবিক ক্ষয়—এসব কারণেও ফোনের চার্জ দ্রুত কমে যেতে পারে।

তাই নতুন ব্যাটারি বা নতুন ফোন কেনার আগে এই পাঁচটি বিষয় একবার পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে।

১. স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা ও দীর্ঘ সময় স্ক্রিন চালু থাকা

ফোনের ব্যাটারি খরচের অন্যতম বড় কারণ হলো ডিসপ্লে। বিশেষ করে স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা অনেক বেশি রাখা হলে এবং দীর্ঘ সময় স্ক্রিন চালু থাকলে ব্যাটারি দ্রুত কমে যেতে পারে।

অনেক ব্যবহারকারী বাইরে বা ঘরের ভেতরেও সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ব্যবহার করেন। এর সঙ্গে যদি দীর্ঘ সময় ভিডিও দেখা, গেম খেলা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বা ব্রাউজিং করা হয়, তাহলে ব্যাটারির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

ফোনের Brightness স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামঞ্জস্য করার সুবিধা থাকলে সেটি ব্যবহার করা যেতে পারে। একই সঙ্গে Screen Timeout বা Auto-Lock-এর সময়ও অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেশি না রাখাই ভালো।

তবে খুব কম উজ্জ্বলতায় স্ক্রিন ব্যবহার করে চোখে অস্বস্তি তৈরি করারও দরকার নেই। নিজের পরিবেশ ও ব্যবহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উজ্জ্বলতা ঠিক করাই সবচেয়ে ভালো।

২. ব্যাকগ্রাউন্ডে অতিরিক্ত অ্যাপ চলছে

আপনি কোনো অ্যাপ ব্যবহার না করলেও সেটি ব্যাকগ্রাউন্ডে কিছু কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল, ক্লাউড স্টোরেজ, ভিডিও বা বিভিন্ন পরিষেবার অ্যাপ নিয়মিত ডাটা আপডেট করতে পারে।

ফলে ব্যবহারকারী সরাসরি অ্যাপ না খুললেও ব্যাটারি খরচ হতে পারে।

কোন অ্যাপ বেশি ব্যাটারি ব্যবহার করছে তা দেখতে Android ফোনে সাধারণত Settings-এর Battery বা Battery Usage বিভাগে এবং iPhone-এ Battery বিভাগে যাওয়া যায়। সেখানে গত কিছু সময়ে কোন অ্যাপ কতটা ব্যাটারি ব্যবহার করেছে তার ধারণা পাওয়া যায়।

যে অ্যাপ খুব কম ব্যবহার করেন কিন্তু অস্বাভাবিকভাবে বেশি ব্যাটারি খরচ করছে, সেটির ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম সীমিত করার কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।

তবে মেসেজিং, ই-মেইল বা গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম বন্ধ করার আগে সতর্ক থাকতে হবে। এতে নোটিফিকেশন দেরিতে আসতে পারে বা কিছু ফিচার স্বাভাবিকভাবে কাজ নাও করতে পারে।

৩. দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্ক বা সিগন্যাল

অনেকেই জানেন না, দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্কও ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়ার একটি কারণ হতে পারে।

যখন ফোনে নেটওয়ার্ক সিগন্যাল দুর্বল থাকে, তখন ডিভাইসটি ভালো সংযোগ ধরে রাখার জন্য নেটওয়ার্ক খোঁজা বা সংযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করতে পারে। ফলে স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় ব্যাটারি ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।

বিশেষ করে এমন এলাকায় যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল বা বারবার পরিবর্তিত হয়, সেখানে ব্যাটারি দ্রুত কমে যাওয়ার বিষয়টি বেশি লক্ষ্য করা যেতে পারে।

যদি দীর্ঘ সময় এমন কোনো জায়গায় থাকেন যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না এবং ফোন ব্যবহারেরও প্রয়োজন নেই, তাহলে পরিস্থিতি অনুযায়ী Airplane Mode ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কল বা মোবাইল ডাটা দরকার হলে অবশ্যই এই মোড বন্ধ রাখতে হবে।

৪. লোকেশন, Bluetooth ও অন্যান্য সংযোগ সব সময় চালু রাখা

GPS বা Location, Bluetooth, Wi-Fi, মোবাইল ডাটা এবং অন্যান্য সংযোগের ব্যবহারও ব্যাটারি খরচে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে কোনো অ্যাপ নিয়মিত লোকেশন ব্যবহার করলে ব্যাটারি ব্যবহারের পরিমাণ বাড়তে পারে।

তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—শুধু Location বা Bluetooth চালু থাকলেই যে ব্যাটারি অস্বাভাবিক দ্রুত শেষ হবে, এমন নয়। বাস্তবে কোন অ্যাপ কীভাবে এসব সুবিধা ব্যবহার করছে এবং ফোনে কী ধরনের কার্যক্রম চলছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

তাই Settings-এর Privacy বা Location Permission বিভাগে গিয়ে কোন অ্যাপ লোকেশন ব্যবহার করছে তা পরীক্ষা করা ভালো। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের লোকেশন অনুমতি সীমিত করা যেতে পারে।

একইভাবে ব্যবহার না করলে Bluetooth বা অন্য কোনো সংযোগ বন্ধ রাখা কিছু পরিস্থিতিতে ব্যাটারি সাশ্রয়ে সাহায্য করতে পারে।

৫. ব্যাটারির স্বাস্থ্য কমে গেছে

সব সেটিংস ঠিক থাকার পরও যদি ফোনের ব্যাটারি আগের তুলনায় দ্রুত শেষ হয়, তাহলে ব্যাটারির স্বাভাবিক ক্ষয় এর অন্যতম কারণ হতে পারে।

স্মার্টফোনের ব্যাটারি সাধারণত লিথিয়াম-আয়ন বা লিথিয়াম-পলিমার প্রযুক্তির হয়। সময়ের সঙ্গে চার্জ নেওয়া ও ব্যবহারের কারণে ব্যাটারির ধারণক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যায়। ফলে নতুন অবস্থায় যে ফোন দীর্ঘ সময় ব্যাকআপ দিত, কয়েক বছর ব্যবহারের পর সেটি তুলনামূলক কম সময় চলতে পারে।

কিছু ফোনে Battery Health বা Battery Capacity দেখার সুবিধা রয়েছে। বিশেষ করে iPhone-এ Battery Health & Charging বিভাগ থেকে ব্যাটারির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। বিভিন্ন Android ফোনেও নির্মাতা ও মডেলভেদে ব্যাটারির স্বাস্থ্য বা ব্যবহারের তথ্য দেখার আলাদা ব্যবস্থা থাকতে পারে।

যদি ব্যাটারি খুব দ্রুত কমে, ফোন অস্বাভাবিক গরম হয়, হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় বা ব্যাটারি ফুলে যাওয়ার মতো শারীরিক সমস্যা দেখা যায়, তাহলে ফোন ব্যবহার বন্ধ করে অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারে পরীক্ষা করানো উচিত।

ব্যাটারি ভালো রাখতে কী করবেন?

ব্যাটারি দীর্ঘদিন ভালো রাখতে কিছু সাধারণ অভ্যাস অনুসরণ করা যেতে পারে। অপ্রয়োজনীয়ভাবে সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ব্যবহার না করা, অতিরিক্ত গরম পরিবেশে ফোন না রাখা, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা এবং ফোনের সফটওয়্যার আপডেট রাখা উপকারী হতে পারে।

একই সঙ্গে অচেনা বা সন্দেহজনক অ্যাপ ইনস্টল না করাও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অ্যাপ অস্বাভাবিকভাবে বেশি ব্যাটারি ব্যবহার করছে কি না, সেটিও নিয়মিত Battery Usage বিভাগ থেকে দেখে নেওয়া ভালো।

নতুন ফোন কেনার আগে সমস্যাটা শনাক্ত করুন

ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হলেই সঙ্গে সঙ্গে নতুন ফোন কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরকার নেই। প্রথমে Battery Usage দেখে কোন অ্যাপ বেশি চার্জ ব্যবহার করছে তা পরীক্ষা করুন। এরপর স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা, ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম, নেটওয়ার্ক পরিস্থিতি এবং লোকেশন ব্যবহারের বিষয়গুলো দেখুন।

এসব ঠিক করার পরও যদি ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়, তাহলে ব্যাটারির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা যেতে পারে। কারণ সমস্যাটি যদি শুধু কোনো অ্যাপ বা সেটিংসের কারণে হয়, তাহলে সহজ কিছু পরিবর্তনেই ব্যাটারি ব্যাকআপে পার্থক্য পাওয়া সম্ভব।

সবশেষে মনে রাখতে হবে, ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়ার কারণ একেক ডিভাইসে একেক রকম হতে পারে। তাই অন্য কারও ফোনের সেটিংস হুবহু অনুসরণ না করে নিজের ফোনের Battery Usage ও অন্যান্য তথ্য দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page