এনআইডি সংশোধনে নতুন নিয়ম আবেদন যাবে ডিজি পর্যায়ে

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ণ
এনআইডি সংশোধনে নতুন নিয়ম আবেদন যাবে ডিজি পর্যায়ে

জন্মতারিখসহ গুরুত্বপূর্ণ এনআইডি সংশোধনের আবেদন এখন ডিজি পর্যায়ে নিষ্পত্তি হবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী, জন্মতারিখ বা জন্মতারিখের সঙ্গে অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনের আবেদন এখন থেকে মাঠপর্যায়ে নয়, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ে নিষ্পত্তি করা হবে।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সহকারী পরিচালক মুহা. সরওয়ার হোসেনের সই করা এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে নতুন নিয়মের আওতায় পড়া আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর এনআইডি সংশোধনসংক্রান্ত নতুন এসওপি প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হয়। নতুন নিয়মে জন্মতারিখ অথবা জন্মতারিখের সঙ্গে অন্য যেকোনো তথ্য সংশোধনের আবেদন ‘ঘ’ ক্যাটাগরির আবেদন হিসেবে বিবেচিত হবে। এসব আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্ব কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এর আগে এনআইডি সংশোধনের বিভিন্ন আবেদন মাঠপর্যায়ের আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা নির্ধারিত ক্যাটাগরি অনুযায়ী নিষ্পত্তি করতেন। আবেদন ও সংশোধনের ধরনের ওপর ভিত্তি করে সেগুলো ‘ক’, ‘খ’ বা ‘গ’সহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিবেচনা করা হতো। নতুন এসওপি কার্যকর হওয়ার পর জন্মতারিখসংক্রান্ত আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, নতুন প্রজ্ঞাপন জারির আগে মাঠপর্যায়ে যেসব জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন জমা হয়েছিল এবং সেগুলোর ক্যাটাগরি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল, সেসব আবেদনও নতুন নিয়মের আওতায় আনতে হবে। অর্থাৎ আগে ‘ক-১’ থেকে ‘গ’ ক্যাটাগরিতে থাকা জন্মতারিখসংক্রান্ত আবেদনগুলোকে ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করতে হবে।

এ জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আবেদনগুলোর তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগে নির্ধারিত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে থাকা জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদনগুলোর তালিকা আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।

এরপর সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী আবেদনগুলোর ক্যাটাগরি পরিবর্তন করবেন। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব আবেদন ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ক্যাটাগরি পরিবর্তনের পর এনআইডি উইংয়ের অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপন করে আবেদনগুলো মহাপরিচালক পর্যায়ে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করবেন। ফলে জন্মতারিখ সংশোধনসহ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের আবেদন যাচাই ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াটি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সম্পন্ন হবে।

ইসি জানিয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সামনে রেখে এনআইডি সংশোধন কার্যক্রম সীমিত থাকায় বর্তমানে অনিষ্পন্ন আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে নাগরিক সেবা সচল রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে মাঠপর্যায়ে থাকা অনিষ্পন্ন আবেদনগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের নতুন নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

ইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয়ভাবে ক্যাটাগরি নির্ধারণ এবং মহাপরিচালক পর্যায়ে আবেদন নিষ্পত্তির ফলে এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও অভিন্নতা বাড়বে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে একই ধরনের যাচাই ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে মাঠপর্যায়ের সব ফাইল প্রধান কার্যালয়ে পাঠানোর কারণে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কাজের চাপ বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। এর মধ্যেও নির্বাচনকালীন সময়ে নাগরিকদের এনআইডি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সেবা সচল রাখা এবং জমে থাকা আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় সংশোধনের আবেদনগুলো নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় যাচাই শেষে মহাপরিচালক পর্যায়ে নিষ্পত্তি হবে। ফলে জন্মতারিখ সংশোধন করতে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সংশোধিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী আবেদন নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page