নেপালে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল প্রবেশে অনুমতি, চার দেশকে সবুজ সংকেত
নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে উদ্ধারকাজে ভারত-চীনসহ চার দেশের বিশেষজ্ঞ দলকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর বিদেশি উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব প্রথমে ফিরিয়ে দিয়েছিল দেশটির সরকার। তবে নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর চাপের মুখে সীমিত পরিসরে আন্তর্জাতিক সহায়তা নিতে রাজি হয়েছে কাঠমান্ডু। ‘কাঠমান্ডু পোস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নেপালে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁদের সন্ধানে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো নিজেদের বিশেষজ্ঞ ও উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। শুরুতে এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হলেও পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় কয়েকটি দেশকে সীমিত পরিসরে কাজ করার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নেপাল সরকার।
নেপালের এক সরকারি কর্মকর্তা ‘কাঠমান্ডু পোস্ট’কে জানিয়েছেন, নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের সন্ধানে নিজ নিজ দেশ থেকে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতেই নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমিতসংখ্যক বিদেশি বিশেষজ্ঞকে কাজের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভারত, চীন, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াকে বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিবিদদের দল পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে নেপাল সরকার। এসব দল মূলত জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে কাজ করবে। পাশাপাশি ডিএনএ পরীক্ষা ও ফরেনসিক কার্যক্রমেও তারা সহায়তা করবে।
এর আগে ভারতসহ আটটি দেশের বিদেশি উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল নেপাল। সে সময় দেশটির সরকার জানিয়েছিল, নিজেদের উদ্ধারকারী দল ও প্রশাসনের সক্ষমতার ওপরই তারা আস্থা রাখতে চায়।
তবে নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের সন্ধানে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাসগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করে। একটি দূতাবাসের কর্মকর্তা জানান, তিন দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁদের নাগরিকদের উদ্ধারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের উদ্ধারকারী দল পাঠানোর অনুরোধও উপেক্ষিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর নেপাল সরকার জানিয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট এলাকাতেই বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা ব্যবহার করা হবে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, সহায়তার জন্য তিনটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।
এর মধ্যে রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আটকে পড়াদের উদ্ধারে চার দেশের বিশেষজ্ঞ দলকে কাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বুধবারের বন্যায় দুই জেলার মোট ১৪টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রাসুয়ায় আটটি এবং নুয়াকোটে ছয়টি প্রকল্প রয়েছে।
এদিকে বুধবারের হড়পা বান ও বন্যার পর শুক্রবার পর্যন্ত ৫৫০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ৯৭৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজ বিদেশিরা ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউক্রেন, অস্ট্রেলিয়াসহ ৩১টি দেশের নাগরিক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সীমিত সহায়তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
