বিশ্ববাজারে বাড়ছে মেহেরপুরের হিমসাগর আমের চাহিদা, রপ্তানি বাড়াতে সরকারি সহায়তা চান চাষিরা

reporter
ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ববাজারে বাড়ছে মেহেরপুরের হিমসাগর আমের চাহিদা, রপ্তানি বাড়াতে সরকারি সহায়তা চান চাষিরা

বিশ্ববাজারে বাড়ছে মেহেরপুরের হিমসাগর আমের চাহিদা

মেহেরপুরের আমবাগানগুলোতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) স্বীকৃতিপ্রাপ্ত জেলার ঐতিহ্যবাহী হিমসাগর আমের চাহিদা শুধু দেশীয় বাজারেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাড়ছে। চলতি মৌসুমে মেহেরপুরের হিমসাগর আম যুক্তরাজ্যে রপ্তানি হচ্ছে। তবে এই সম্ভাবনাময় খাতকে আরও এগিয়ে নিতে সরকারি সহায়তা, কোল্ড চেইন সুবিধা ও বিমানবন্দরে দ্রুত কার্গো সেবার দাবি জানিয়েছেন চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে মেহেরপুরে ২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে রয়েছে হিমসাগর আমের বাগান। জেলায় প্রায় ৪০ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২৪ হাজার টনই হিমসাগর আম।

চাষি ও রপ্তানিকারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা পূরণে এবার অনেক বাগানে আধুনিক ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে আমের গুণগত মান বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কীটনাশকের ব্যবহারও কমেছে। ফলে দেশি ও বিদেশি বাজারে এই আমের দামও তুলনামূলক বেশি পাওয়া যাচ্ছে।

সদর উপজেলার ঝাউবাড়িয়া গ্রামের বাগানমালিক মিলন বিশ্বাস ও শাহিনুজ্জামান বলেন, কয়েক বছর ধরে তারা ইউরোপের বাজারে আম পাঠাচ্ছেন। চলতি মৌসুমে তাদের বাগান থেকে ৫ থেকে ৭ টন হিমসাগর আম যুক্তরাজ্যে রপ্তানির চুক্তি হয়েছে। তবে বিমানবন্দরে কার্গো জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক সময় পচনশীল পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার দায় শেষ পর্যন্ত চাষিদেরই বহন করতে হয়।

একই এলাকার চাষি নিসাব হায়দার জানান, ফ্রুট ব্যাগিংয়ের কারণে এবার আমের মান অনেক ভালো হয়েছে। ফলে সাধারণ আমের তুলনায় কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দাম পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে সুবিদপুর গ্রামের আমচাষি আবদুল জলিল বলেন, এলাকায় কোনো হিমাগার না থাকায় আম সংগ্রহের পর দ্রুত বাজারজাত করতে হচ্ছে। একটি হিমাগার স্থাপন করা হলে চাষিরা বড় সুবিধা পেতেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, মেহেরপুরের হিমসাগর আমের সুনামের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা এসে বাগান কিনে নিচ্ছেন। তবে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও পথে নানা ধরনের হয়রানি ব্যবসার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রপ্তানিকারকদের মতে, হিমসাগর আমের ঘন শাঁস, আঁশহীন গঠন ও সুগন্ধ আন্তর্জাতিক বাজারে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে। তবে বিদেশি বাজার ধরে রাখতে হলে রোগমুক্ত ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আম সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক শায়খুল ইসলাম জানান, মেহেরপুর থেকে বাণিজ্যিকভাবে আম রপ্তানি শুরু হয় ২০১৫ সালে। ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো প্রায় ১২ মেট্রিক টন হিমসাগর আম ইউরোপের বাজারে পাঠানো হয়। বর্তমানে কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ উৎপাদন নিশ্চিত করে বিভিন্ন দেশে আম রপ্তানি করা হচ্ছে। তবে চলতি মৌসুমে শুধুমাত্র যুক্তরাজ্যে রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সঞ্জীব মৃধা বলেন, কোল্ড চেইন লজিস্টিকস, দ্রুত শুল্কায়ন এবং কার্গো সুবিধা সহজলভ্য করা গেলে মেহেরপুরের হিমসাগর আমের রপ্তানি বহুগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে সুপারিশও পাঠানো হয়েছে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন