অপহরণের পরিকল্পনায় এমবাপ্পে, ফ্রান্সে গ্রেপ্তার ১৮ বছরের তরুণ
এমবাপ্পেকে ঘিরে অপহরণ ষড়যন্ত্র, গ্রেপ্তার এক তরুণ
ফ্রান্সে বড় একটা অপহরণ চক্র ধরা পড়েছে, আর এতে নাম এসেছে বিখ্যাত ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পের। পুলিশ ১৮ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে, যিনি এমবাপ্পেসহ মোট ২৬ জন ধনী ও পরিচিত মানুষকে অপহরণ করার পরিকল্পনা করছিলেন। এই তরুণের ফোন থেকে পুলিশ একটা তালিকা উদ্ধার করে, যেখানে ধনী ব্যবসায়ী, একজন র্যাপার আর ফুটবল তারকা এমবাপ্পের নামও ছিল। এই তথ্য প্রথম প্রকাশ করে ফরাসি পত্রিকা ল্য পারিজিয়ঁ, আর এরপর থেকেই এই খবর সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।
এই তরুণের নাম ক্লেমঁ এল। অনলাইনে, বিশেষ করে স্ন্যাপচ্যাটে, তিনি “লেস্টার জেড” নামে পরিচিত ছিলেন। শুধু একা নয়, তার সঙ্গে আরও কয়েকজন সহযোগীও এই কাজে জড়িত ছিল। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, ক্লেমঁ এই পরিকল্পনার সময় আগে থেকেই জেলে বন্দি ছিলেন—দালালি আর সশস্ত্র ডাকাতির মামলায় ভিলপাঁত কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন তিনি। কিন্তু জেলের ভেতরে বসেও তিনি থেমে থাকেননি—স্ন্যাপচ্যাট অ্যাপ ব্যবহার করে বাইরের সহযোগীদের নির্দেশ দিয়ে তার পুরো অপরাধী দলকে পরিচালনা করে গেছেন।
এই চক্র কেন এমন কাজ করছিল, তার উত্তর খুবই সহজ—টাকার লোভে। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ধনী ও প্রভাবশালী মানুষদের অপহরণ করে বা তাদের বাড়িতে ডাকাতি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া। এমবাপ্পে যেহেতু বিশ্বের অন্যতম ধনী ফুটবলার এবং প্যারিসে তার নিজের বাড়ি আছে, তাই তিনি এই তালিকায় সবচেয়ে বড় ও আলোচিত টার্গেট হয়ে ওঠেন। শুধু এমবাপ্পে নন, তালিকায় আরও ছিলেন একজন চীনা ব্যবসায়ী আর একজন তুর্কি মাংস বিক্রেতা, যা থেকে বোঝা যায় এই চক্র শুধু সেলিব্রিটি নয়, বরং যেকোনো সম্পদশালী মানুষকেই লক্ষ্যবস্তু বানাতে প্রস্তুত ছিল।
এই চক্রটি চলতি বছরের ১১ এপ্রিল থেকে ১৯ আগস্টের মধ্যে ফ্রান্সের কয়েকটি জায়গায় কাজ চালিয়েছে—যেমন নুইয়ি-সুর-সেন, সাঁ-ব্রিস-সু-ফোরে আর সঁতনে। প্রথমে এপ্রিল মাসে তারা নুইয়ি-সুর-সেনে এক ঘড়ি ব্যবসায়ীর বাড়িতে পার্সেল ডেলিভারির ছদ্মবেশে ঢোকার চেষ্টা করে, কিন্তু ওই ব্যবসায়ী সন্দেহ করে দরজা না খোলায় তারা পালিয়ে যায়। এরপর মে মাসে প্যারিসের একটা ঘড়ির দোকানে অস্ত্র নিয়ে ডাকাতি করে তারা প্রায় দেড় লাখ ইউরোর ঘড়ি লুট করে, আর স্কুটারে চড়ে পালানোর সময় একজন ধরাও পড়ে যায় দুর্ঘটনায়।
গত ১৯ আগস্ট বোবিনি শহরের আদালত থেকে বের হওয়ার সময় পুলিশ ক্লেমঁকে গ্রেপ্তার করে। তিনি সেদিন অন্য একটি পুরনো মামলায় হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন। তার কাছ থেকে হাতকড়া বাঁধার জন্য প্লাস্টিকের বেল্ট আর পাঁচটা আইফোন পাওয়া যায়। এরপর ২১ আগস্ট নঁতেরে শহরে তাকে আর তার এক সঙ্গীকে সংঘবদ্ধ ডাকাতিসহ একাধিক অভিযোগে আদালতে দোষী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। বর্তমানে তিনি একাকী একটা সেলে বন্দি আছেন এবং বিচারের অপেক্ষায় আছেন।
এই চাঞ্চল্যকর খবর সামনে আসার পরও এমবাপ্পে তার ফুটবল ক্যারিয়ারে পুরোপুরি মনোযোগী রয়েছেন। সম্প্রতি লা লিগায় রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে তিনি দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করেছেন, আর চলতি মৌসুমে বেশ ভালো ছন্দে আছেন তিনি। তবে এই ঘটনা ফ্রান্সে বিখ্যাত ও ধনী মানুষদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চিন্তার জন্ম দিয়েছে। পুলিশের তদন্ত এখনো চলমান আছে, আর বাকি সহযোগীদের খুঁজে বের করার কাজও চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
তথ্যসূত্র: Le Parisien
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
