মান্দায় সড়ক সংস্কার কাজের মান পরিদর্শনে প্রকল্প পরিচালক

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
মান্দায় সড়ক সংস্কার কাজের মান পরিদর্শনে প্রকল্প পরিচালক

গণমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশের পর মান্দার সড়ক সংস্কারকাজ পরিদর্শন

নওগাঁর মান্দায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন সড়ক সংস্কারকাজের গুণগত মান সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. মনসুর রহমান। গণমাধ্যমে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ প্রকাশের পর কাজের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করতে তিনি এ পরিদর্শন করেন।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার গণেশপুর ইউনিয়নের সতিহাট ওয়াহেদ পাগলার মোড় থেকে দুর্গাপুরগামী এক কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ পরিদর্শন করেন প্রকল্প পরিচালক। এ সময় তিনি সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বালু, খোয়া ও অন্যান্য উপকরণের মান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

জানা গেছে, ওই সড়কের সংস্কারকাজের দায়িত্বে রয়েছে ‘আরশী এন্টারপ্রাইজ’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আলমগীর হোসেন। সম্প্রতি সড়কটির নির্মাণকাজে নিম্নমানের খোয়া ও বালু ব্যবহারের অভিযোগ তুলে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সরেজমিনে কাজের মান যাচাই করতে প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান।

পরিদর্শনকালে প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে ছিলেন নওগাঁ জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বদরুদ্দোজা, মান্দা উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের, উপসহকারী প্রকৌশলী হাসান আশকোরী, সার্ভেয়ার এহতেশাম বিল্লাহসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

পরিদর্শন শেষে নওগাঁ জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বদরুদ্দোজা বলেন, সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া ও বালু ব্যবহারের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর তারা ঘটনাস্থলে এসে কাজের মান যাচাই করেছেন। সরেজমিনে পরিদর্শনের পর প্রকাশিত সংবাদের সঙ্গে বাস্তব চিত্র এবং কাজের মানের মধ্যে বড় ধরনের কোনো অসঙ্গতি পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, সড়কটির প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ মানসম্মত হয়েছে। নির্মাণকাজের সময় সামান্য তারতম্য থাকতে পারে। ডব্লিউবিএম স্তরের কাজ শেষ হওয়ার পর যথাযথভাবে কমপেকশন ও রোলিং করা হলে ওই অংশও ঠিক হয়ে যাবে।

প্রকল্প পরিচালক মো. মনসুর রহমান বলেন, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি সামনে আসার পর কাজের গুণগত মান যাচাই করতেই তারা সরেজমিনে এসেছেন। পরিদর্শন ও অনুসন্ধানে কাজের মান নিয়ে বড় ধরনের কোনো অসঙ্গতি পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, সড়কের ফিটনেস এবং বালু-খোয়ার মিশ্রণ ঠিক রয়েছে। তবে ব্যবহৃত খোয়ার পরিমাণে প্রায় ৫ শতাংশ ঘাটতি পাওয়া গেছে। ডব্লিউবিএম কাজ শেষ হওয়ার পর রোলিং ও কমপেকশনের মাধ্যমে সড়কের স্তর সমান ও প্রয়োজনীয় মানে নিয়ে আসা হবে।

প্রকল্প পরিচালক আরও বলেন, আপাতত সড়কটির সংস্কারকাজের মান নিয়ে বড় ধরনের সন্দেহের সুযোগ নেই। তবে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে তদারকি অব্যাহত থাকবে।

এদিকে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সড়ক সংস্কারের বাকি কাজ নির্ধারিত মান ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে। নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ত্রুটি থাকলে তা দ্রুত সংশোধনের পাশাপাশি কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরেজমিন পরিদর্শনের ফলে সড়কটির সংস্কারকাজের মান নিয়ে তৈরি হওয়া অভিযোগের বিষয়টি যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন বাকি কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন এবং নির্ধারিত মান বজায় রাখা হচ্ছে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page