মহাদেবপুরে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, নারী আটক

প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ
মহাদেবপুরে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, নারী আটক

প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

মহাদেবপুর (নওগাঁ) সংবাদদাতা, মোঃ রমজান হোসেন: নওগাঁর মহাদেবপুরে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া এবং ভুয়া কার্ড দেওয়ার অভিযোগে জনি আক্তার জুঁই (৩৫) নামে এক নারীকে আটক করে পুলিশ। পরে ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লিখিত আপোষনামায় স্বাক্ষর করানোর পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার ১০ নম্বর ভীমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর উত্তরপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে জনি আক্তার জুঁইকে আটক করে পুলিশ। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

অভিযুক্ত জনি আক্তার জুঁই ওই গ্রামের হামিদুল ইসলামের স্ত্রী। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। এভাবে ১৩ জনের কাছ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৮০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

লিখিত আপোষনামা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া ৭৮ হাজার ৮০০ টাকা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জনি আক্তার। এ বিষয়ে তিনি লিখিত আপোষনামায় স্বাক্ষর করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত না দেওয়া হলে ভুক্তভোগীরা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন বলেও ওই আপোষনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ভীমপুর গ্রামের ১৩ জনকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে জনি আক্তার বিভিন্ন সময়ে তাদের কাছ থেকে টাকা নেন। পরে গত ১৬ আগস্ট ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার কথা বলে তাদের ডেকে নেওয়া হয়। তবে সেখানে যাওয়ার পর নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

এরপর গত ২০ আগস্ট দুপুরে ভুক্তভোগীরা জনি আক্তারের বাড়িতে গিয়ে তাদের দেওয়া টাকা ফেরত চান। এ সময় তাদের মধ্যে তিনজনকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেওয়া হয়। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, ওই কার্ডগুলো ভুয়া। টাকা ফেরতের জন্য চাপ দেওয়া হলে জনি আক্তার ক্ষিপ্ত হয়ে টাকা ফেরত দেবেন না বলে জানান এবং তাদের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে তহমিনা ও রেনুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং মহাদেবপুর থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে জনি আক্তার জুঁইকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জনি আক্তার। তার দাবি, টাকা নেওয়া বা ভুয়া প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেওয়ার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। পরিবারের দেবরের সঙ্গে তার বিরোধ রয়েছে এবং সেই পারিবারিক বিরোধের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনায় ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, অভিযুক্তের বক্তব্য নেওয়ার পর সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে প্রতিবেদককে ফোন করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে জনি আক্তারের বিরুদ্ধে। তিনি নিজেও একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছেন। তবে এ বিষয়ে পৃথক কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, আটকের পর ভুক্তভোগীদের সঙ্গে বসে জনি আক্তার আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে লিখিত আপোষনামায় স্বাক্ষর করায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা তাদের টাকা ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি ভাতা বা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে কেউ যেন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোরও দাবি উঠেছে।

নোট: ভুয়া কার্ড দেওয়া, টাকা নেওয়া ও হুমকি দেওয়ার বিষয়গুলো ভুক্তভোগীদের অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; এগুলো তদন্ত বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রমাণিত বিষয় নয়।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page