ভার্মি কম্পোস্টে সফলতার গল্প সেবেন চন্দ্রের

প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৬ অপরাহ্ণ
ভার্মি কম্পোস্টে সফলতার গল্প সেবেন চন্দ্রের

ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদনে সফল কৃষক সেবেন চন্দ্র

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের বিষ্ঠদেব গ্রামের কৃষক সেবেন চন্দ্র জৈব ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন ও বাজারজাত করে নিজেকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। তার এই উদ্যোগ যেমন আর্থিকভাবে লাভজনক হয়েছে, তেমনি স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও জৈব সার ব্যবহারে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

সেবেন চন্দ্র জানান, বর্তমানে তিনি প্রতি মাসে গড়ে ৩০ থেকে ৪০ মণ ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন করেন। উৎপাদিত সার প্রতি কেজি ১০ টাকা দরে বিক্রি করে মাসে গড়ে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা আয় করছেন।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে কৃষিজমির উর্বরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। মাটির জৈব উপাদানের পরিমাণ প্রায় ২ শতাংশে নেমে আসায় মাটির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে জৈব সারের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। এ উপলব্ধি থেকেই তিনি ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

উদ্যোক্তা আরও জানান, শুরুতে তিনি দিনাজপুর থেকে ৫ হাজার টাকা মূল্যে ৫ কেজি থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ান জাতের কেঁচো সংগ্রহ করে খামারের কার্যক্রম শুরু করেন। বর্তমানে তার খামারে কেঁচোর পরিমাণ বেড়ে প্রায় ১২ থেকে ১৫ কেজি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে উৎপাদন আরও বাড়াতে সহায়ক হবে।

সেবেন চন্দ্রের মতে, ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন শুধু ব্যবসার জন্য নয়, নিজেদের জমির উর্বরতা রক্ষার জন্যও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তিনি বলেন, “প্রত্যেক কৃষক যদি নিজের প্রয়োজনের জৈব সার নিজেই উৎপাদন করেন এবং রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে আনেন, তাহলে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে, উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত হবে।”
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, সেবেন চন্দ্রের এই উদ্যোগ এলাকার অনেক কৃষকের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। তারা মনে করছেন, পরিবেশবান্ধব কৃষি ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থায় ভার্মি কম্পোস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে জৈব সার ব্যবহারে গুরুত্ব দিলে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তাই গ্রামীণ পর্যায়ে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনের মতো উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page