মোবাইল অপারেটরের কাছে সরকারের পাওনা ১৩ হাজার কোটি টাকা

বাণিজ্য প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৯:৩১ অপরাহ্ণ
মোবাইল অপারেটরের কাছে সরকারের পাওনা ১৩ হাজার কোটি টাকা

মোবাইল অপারেটরদের কাছে সরকারের পাওনা ১৩ হাজার কোটি টাকা

দেশের মোবাইল টেলিযোগাযোগ খাতে সরকারের বিপুল অঙ্কের রাজস্ব এখনো আদায় হয়নি। জাতীয় সংসদে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরের কাছে সরকারের মোট পাওনা দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা। এই বকেয়ার বড় অংশই রয়েছে দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান টেলিটকের কাছে।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এ তথ্য তুলে ধরেন। কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমানের প্রশ্নের জবাবে তিনি অপারেটরভিত্তিক বকেয়ার বিস্তারিত চিত্র সংসদে উপস্থাপন করেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন লাইসেন্স ফি, স্পেকট্রাম ব্যবহারের ফি, রাজস্ব ভাগাভাগি (রেভিনিউ শেয়ারিং), সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল (এসওএফ), প্রশাসনিক জরিমানা এবং নিরীক্ষা আপত্তির কারণে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারের কাছে পাওনা হিসেবে জমা হয়েছে।

চার অপারেটরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে গ্রামীণফোনের নামে। কোম্পানিটির কাছে সরকারের পাওনা ৬ হাজার ১০২ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অডিট আপত্তি, ভ্যাট সংক্রান্ত দাবি এবং রাজস্ব হিসাবের বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে এই অর্থ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা চলছে। বিষয়টির একটি অংশ বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বকেয়া রয়েছে সরকারি মালিকানাধীন মোবাইল অপারেটর টেলিটকের কাছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সরকারের পাওনা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা। লাইসেন্স ফি, স্পেকট্রাম চার্জ এবং রেভিনিউ শেয়ারিংসহ বিভিন্ন খাতে বছরের পর বছর ধরে এই অর্থ জমা হয়েছে। টেলিটকের সীমিত গ্রাহকসংখ্যা এবং আর্থিক চ্যালেঞ্জের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে।

অন্যদিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটার কাছে সরকারের পাওনা রয়েছে ৬১৫ কোটি টাকা। সরকারি হিসাবে এই বকেয়ার একটি অংশ অডিট আপত্তিজনিত এবং বাকি অংশ রাজস্ব ভাগাভাগি সংক্রান্ত। এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলে সংসদে জানানো হয়েছে।

বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনসের কাছেও সরকারের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পাওনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বকেয়ার পরিমাণ ৪৭৩ কোটি টাকা। অডিট আপত্তি এবং রেভিনিউ শেয়ারিং সংক্রান্ত দাবির কারণে এই অর্থ এখনও পরিশোধ হয়নি বলে সরকারি তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

টেলিযোগাযোগ খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে সরকারের আর্থিক বিরোধ নতুন কোনো বিষয় নয়। গত এক দশকে একাধিকবার অডিট রিপোর্ট, রাজস্ব হিসাব এবং লাইসেন্স সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে, যার ফলে বিপুল অঙ্কের অর্থ দীর্ঘ সময় ধরে অনাদায়ী অবস্থায় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমানে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, মোবাইল ইন্টারনেট এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবার বিস্তারে মোবাইল অপারেটরদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরকার এবং অপারেটরগুলোর মধ্যে চলমান রাজস্ব বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি হলে খাতটিতে নতুন বিনিয়োগ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের সুযোগ বাড়বে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোবাইল সংযোগের সংখ্যা কয়েক কোটিরও বেশি। ডিজিটাল সেবার বিস্তার, মোবাইল ব্যাংকিং এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে অপারেটরগুলোর গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের বিপুল পরিমাণ পাওনা অর্থ আদায় এবং দীর্ঘদিনের আর্থিক বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

সংসদে প্রকাশিত এই তথ্যের পর এখন নজর থাকবে আদালতে বিচারাধীন মামলাগুলোর অগ্রগতি এবং সরকারের পাওনা অর্থ আদায়ে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

সূত্র:জাতীয় সংসদ

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন