পর্বতারোহীদের ‘মূত্র বিসর্জনেই’ গলছে এভারেস্টের হিমবাহ

প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
পর্বতারোহীদের ‘মূত্র বিসর্জনেই’ গলছে এভারেস্টের হিমবাহ

পর্বতারোহীদের প্রস্রাবে গলছে এভারেস্টের হিমবাহ

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে মানুষের কার্যক্রমের কারণে প্রতিবছর প্রায় আড়াই হাজার টন বরফ ও তুষার গলে যাচ্ছে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। জ্বালানি ব্যবহারের উত্তাপ এবং বরফের ওপর সরাসরি ত্যাগ করা মূত্রের তাপ হিমবাহের ক্ষয়ে ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

পরিবেশবিষয়ক গবেষণাপত্র ‘রিজিওনাল এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ’-এ প্রকাশিত গবেষণার তথ্যের বরাতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।

গবেষণাটি নেপালের খুম্বু হিমবাহের ওপর অবস্থিত এভারেস্ট বেস ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে। প্রতিবছর বসন্ত মৌসুমে হাজার হাজার পর্বতারোহী, গাইড ও সহকারী কর্মীদের উপস্থিতিতে এই দুর্গম বরফাঞ্চল একটি অস্থায়ী পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়।

ইন্টারনেট, গরম পানির ব্যবস্থা, উত্তপ্ত তাবু ও ক্যাফেটেরিয়ার মতো আধুনিক সুবিধা চালু রাখতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে হিমবাহের ওপর।

গবেষণায় বলা হয়, ২০২৩ সালের ৫০ দিনের বসন্ত মৌসুমে বেস ক্যাম্পে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি তাবুর জ্বালানি চাহিদা পূরণে ৮২৪ ক্যানিস্টার এলপিজি গ্যাস, ১৮ হাজার ৯৩৫ লিটার কেরোসিন এবং ৫ হাজার ১৩০ লিটার পেট্রোল ব্যবহার করা হয়।

রান্না, তাবু গরম রাখা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত এসব জ্বালানি থেকে উৎপন্ন তাপের পাশাপাশি মানুষের শরীরের বর্জ্যের উত্তাপও বরফ গলাতে ভূমিকা রাখছে।

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, এসব উৎস থেকে প্রায় ৮ লাখ ৪৯ হাজার ১৭৪ মেগাজুল শক্তি নির্গত হয়, যা আনুমানিক ২ হাজার ৪৯২ টন বরফ গলানোর জন্য যথেষ্ট। হিসাবের অনিশ্চয়তা বিবেচনায় এই পরিমাণ ১ হাজার ৯৬৪ থেকে ৩ হাজার ২০ টনের মধ্যে হতে পারে।

গলে যাওয়া পানির পরিমাণ একটি অলিম্পিক সাইজের সুইমিং পুল, ৮৩টি তেলের ট্যাংকার কিংবা প্রায় ১৬ হাজার ৭০০টি সাধারণ বাথটাব পূর্ণ করার সমান।

গবেষণায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো মানুষের মূত্রের তাপ। উচ্চতায় পানিশূন্যতা এড়াতে পর্বতারোহী ও গাইডরা বেশি পানি পান করেন। ফলে বেস ক্যাম্পে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬ হাজার লিটার মূত্র ত্যাগ করা হয়।

এই তরল বর্জ্য সরাসরি হিমবাহের ওপর ফেলা হলে শুধু এর তাপের কারণেই এক মৌসুমে প্রায় ১৫৪ টন বরফ গলে যেতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

১৯৯১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, এভারেস্ট বেস ক্যাম্প এলাকার ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রতিবছর গড়ে ০.২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বাড়ছে।

গবেষকদের মতে, আশপাশের খুম্বু হিমবাহের তাপমাত্রা বৃদ্ধির তুলনায় এই হার প্রায় দ্বিগুণ।

নেপালের ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের জ্যেষ্ঠ জরিপকারী কিম লাল গৌতমের নেতৃত্বাধীন গবেষক দল জানিয়েছে, হেলিকপ্টার চলাচল, পোর্টার ও ইয়াকের শরীরের উত্তাপ এবং মানুষের শারীরিক তাপ যুক্ত করলে ক্ষয়ের প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনই এভারেস্টের বরফ গলার প্রধান কারণ হলেও, গবেষকরা বলছেন, একটি সংবেদনশীল হিমবাহের ওপর হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।

পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বেস ক্যাম্পকে হিমবাহ থেকে সরিয়ে কাছাকাছি কোনো স্থায়ী ও নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছেন।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page