আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এবার পোশাক কারখানার শ্রমিকদের ছুটি ধাপে ধাপে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। সড়ক পরিবহন, নৌ ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, একসঙ্গে সব গার্মেন্টস কারখানায় ছুটি ঘোষণা না করে পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়া হবে, যাতে ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত চাপ ও বিশৃঙ্খলা কমানো যায়।
আরও পড়ুন-ময়লার বিল ১০০ টাকার বেশি নিলেই লাইসেন্স বাতিল ডিএসসিসির কঠোর হুঁশিয়ারি
সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, গত ঈদুল ফিতরে একযোগে বিপুল সংখ্যক পোশাক শ্রমিক ঢাকা ছাড়ায় সড়ক, মহাসড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছিল। ফলে বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ যানজট ও যাত্রী ভোগান্তি দেখা দেয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “গত ঈদে হঠাৎ করে অনেক গার্মেন্টস একসঙ্গে ছুটি দেওয়ায় পরিবহন ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। এবার সেই পরিস্থিতি এড়াতে পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়া হবে।”
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, দেশের তৈরি পোশাক খাতে কয়েক লাখ শ্রমিক রাজধানী ও শিল্পাঞ্চল থেকে ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে যান। নির্দিষ্ট এক বা দুই দিনের মধ্যে এত বিপুল সংখ্যক মানুষ একসঙ্গে যাত্রা শুরু করলে মহাসড়কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজটের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গার্মেন্টস কারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে ছুটি দিলে যাত্রী চাপ কিছুটা ভাগ হয়ে যাবে। এতে গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা সহজ হবে এবং শ্রমিকদের ভোগান্তিও কমতে পারে।
মন্ত্রী আরও জানান, শুধু ছুটির সময়সূচিই নয়, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে বিভিন্ন প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং নিয়ম লঙ্ঘন ঠেকাতে এবার ৬৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল, সড়ক দখল এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি চালানো হবে। একই সঙ্গে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
প্রতিবছর ঈদের আগে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেন লাখো মানুষ। বিশেষ করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বড় একটি অংশ শেষ কর্মদিবস পর্যন্ত কারখানায় কাজ করার কারণে একসঙ্গে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এতে বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হয়।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছুটির সময় ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় থাকলে শুধু যানজটই কমবে না, দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমে আসবে। কারণ অতিরিক্ত যাত্রী চাপের সময় অনেক পরিবহন অতিরিক্ত যাত্রী বহন বা অনিরাপদভাবে চলাচল করে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে পরিবহন মালিক, গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগও প্রয়োজন। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলভিত্তিক ছুটির সময় আলাদা করা গেলে যাত্রী চাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
এদিকে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে মহাসড়কে যানজট কমাতে বিভিন্ন স্থানে বিশেষ নজরদারি থাকবে। পাশাপাশি সড়ক সংস্কার, টোল প্লাজা ব্যবস্থাপনা এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণেও বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার পরিকল্পিতভাবে ছুটি ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা গেলে ঈদযাত্রা আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক হবে।
সূত্র: সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন, নৌ ও রেলপথমন্ত্রীর বক্তব্য।
আরও পড়ুন-আজ থেকেই ঢাকার রাস্তায় এআই ক্যামেরায় অটো মামলা ট্রাফিক আইন চালু
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔








