ময়লার বিল ১০০ টাকার বেশি নিলেই লাইসেন্স বাতিল ডিএসসিসির কঠোর হুঁশিয়ারি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ময়লার বিল ১০০ টাকার বেশি নিলেই লাইসেন্স বাতিল ডিএসসিসির কঠোর হুঁশিয়ারি

ময়লার বিল ১০০ টাকার বেশি নিলেই লাইসেন্স বাতিল: ডিএসসিসি প্রশাসক

রাজধানীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ বাড়তে থাকায় এবার কঠোর অবস্থানে গেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। বাসাবাড়ি থেকে নির্ধারিত ১০০ টাকার বেশি বর্জ্য বিল আদায় করা হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে সরাসরি সতর্ক করেছেন ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। একই সঙ্গে প্রতিদিনের ময়লা প্রতিদিন অপসারণ না করলেও ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন-ওভারটাইমের ৫০ শতাংশ ভাতা ও সুদমুক্ত বাইক লোন চাইল পুলিশ সদস্যরা

সোমবার রাজধানীর নগর ভবন অডিটরিয়ামে বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে যে অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত ফি’র চেয়ে বেশি টাকা আদায় করছে। আবার কোথাও কোথাও প্রতিদিন ময়লা সংগ্রহ করা হচ্ছে না, ফলে বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। এসব অনিয়ম আর সহ্য করা হবে না বলে স্পষ্ট জানান তিনি।

তিনি বলেন, প্রতিটি ফ্ল্যাট বা বাসাবাড়ি থেকে মাসিক সর্বোচ্চ ১০০ টাকা বর্জ্য সংগ্রহ বিল নেওয়া যাবে এবং তা অবশ্যই নির্ধারিত রশিদের মাধ্যমে আদায় করতে হবে। অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ডিএসসিসির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, কোনো এলাকায় দিনের ময়লা পরদিন পর্যন্ত পড়ে থাকতে দেওয়া যাবে না। প্রতিদিনের বর্জ্য প্রতিদিনই অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে। কারণ দীর্ঘ সময় ময়লা পড়ে থাকলে দুর্গন্ধ, পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে।

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বিশেষ প্রস্তুতির নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে সভায়। প্রশাসক জানান, ঈদের পরের তিন দিন কোনো পরিচ্ছন্নতা কর্মী বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ছুটিতে থাকতে পারবেন না। প্রতিটি ওয়ার্ড পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থেকে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক বা প্রতিনিধিদের সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম তদারকি করতে হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ভ্যান, গাড়ি ও জনবল প্রস্তুত রাখতে হবে।

সভায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের আচরণ নিয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়। নাগরিকদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার বজায় রাখা এবং পরিচ্ছন্ন পোশাকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। ডিএসসিসি মনে করছে, সেবার মান উন্নত করতে কর্মীদের আচরণ ও পেশাদারিত্বও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এদিকে রাস্তা বা খালে যত্রতত্র ময়লা ফেলার বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে সিটি করপোরেশন। কোনো বাসা বা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য না ফেলে রাস্তায় বা খালে ফেললে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। প্রয়োজনে জরিমানা ও আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিন ধরেই বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ঈদুল আজহার সময় কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ না হলে পরিবেশ দূষণ ও নাগরিক ভোগান্তি বাড়ে। তাই আগাম প্রস্তুতি এবং মাঠপর্যায়ে কঠোর তদারকি গুরুত্বপূর্ণ।

তারা আরও বলছেন, নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত বিল আদায় বন্ধ করা গেলে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবেন। একই সঙ্গে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত হলে নগরীর পরিবেশও আরও স্বাস্থ্যকর রাখা সম্ভব হবে।

সভায় ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন এই নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরবে।

সূত্র: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

আরও পড়ুন-আজ থেকেই ঢাকার রাস্তায় এআই ক্যামেরায় অটো মামলা ট্রাফিক আইন চালু

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page