দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের বাইরেও দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয় পুলিশ সদস্যদের। তবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের পরও তারা কোনো ওভারটাইম সম্মানি পান না বলে অভিযোগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এবার অতিরিক্ত কাজের জন্য ওভারটাইম ভাতা চালুর দাবি তুলেছেন পুলিশ সদস্যরা। পাশাপাশি তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত করতে সুদমুক্ত মোটরসাইকেল ঋণ এবং মামলার তদন্ত ব্যয় বাড়ানোর দাবিও এসেছে পুলিশ সপ্তাহের কল্যাণ সভায়।
আরও পড়ুন-এআই ই-ট্রাফিক ক্যামেরায় যে সব অপরাধ ধরা পড়ছে ঢাকার রাস্তায়
রোববার দুপুরে অনুষ্ঠিত পুলিশ সপ্তাহের পুলিশ কল্যাণ মিটিংয়ে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সভায় চট্টগ্রাম শিল্পাঞ্চল ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেলের পক্ষ থেকে ওভারটাইম ভাতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়।
তিনি বলেন, পুলিশের সদস্যরা নিয়মিত ডিউটির বাইরে অতিরিক্ত সময় দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন অভিযান, নিরাপত্তা কার্যক্রম, তদন্ত এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে দিনের পর দিন দীর্ঘ সময় কাজ করলেও এর জন্য আলাদা কোনো সম্মানি দেওয়া হয় না। তাই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে ওভারটাইমের অন্তত ৫০ শতাংশ ভাতা চালুর দাবি জানান তিনি।
পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করছেন, অতিরিক্ত কাজের যথাযথ মূল্যায়ন করা হলে সদস্যদের মধ্যে কর্মোদ্যম আরও বাড়বে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে আগ্রহ ও পেশাগত মনোযোগও বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে পুলিশ সদস্যদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল সুদমুক্ত মোটরসাইকেল ঋণ চালু করা। বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার এ বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় যানবাহনের সংকট বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো বা তদন্তের কাজ এগিয়ে নিতে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভর করতে হয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে বর্তমানে বিপুল সংখ্যক এসআই ও এএসআই কর্মরত থাকলেও সরকারি মোটরসাইকেলের সংখ্যা তুলনামূলক খুবই কম। ফলে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৪ হাজার এসআই ও এএসআই দায়িত্ব পালন করছেন। বিপরীতে সরকারি মোটরসাইকেল রয়েছে মাত্র কয়েক হাজার। এতে তদন্ত কাজে গতি আনা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে পুলিশ সদস্যদের জন্য সহজ শর্তে এবং সুদমুক্ত মোটরসাইকেল ঋণের ব্যবস্থা চালুর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে মামলার তদন্ত ব্যয় বাড়ানোর দাবিও তোলা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান সময়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় যাতায়াত, তথ্য সংগ্রহ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় বরাদ্দ বাড়েনি। ফলে অনেক সময় তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
সভায় রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনের ব্যারাক ভবনের অবস্থাও তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পুরোনো ভবনগুলোর অনেকগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এবং সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন আবাসন সুবিধা তৈরির দাবিও জানানো হয়।
পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন দাবি উপস্থাপনের সময় সংশ্লিষ্টরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরে তিনি বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন এবং দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে আশ্বাস দেন বলে সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পুলিশের সদস্যরা দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পান না। বিশেষ করে অতিরিক্ত কাজের চাপ, সীমিত যানবাহন এবং আবাসন সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। এসব বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে পুলিশ বাহিনীর কর্মপরিবেশ আরও উন্নত হতে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থায় শুধু প্রযুক্তি নয়, মাঠপর্যায়ের সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কর্মপরিবেশ ভালো হলে দায়িত্ব পালনের মানও উন্নত হয়। তাই ওভারটাইম ভাতা, তদন্ত ব্যয় বৃদ্ধি এবং সহজ শর্তে যানবাহন সুবিধা পুলিশের কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, পুলিশ সপ্তাহে উত্থাপিত এসব দাবি বাস্তবায়িত হলে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন আরও গতিশীল হবে এবং তদন্ত কার্যক্রমেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সূত্র: পুলিশ সপ্তাহের কল্যাণ সভায় উপস্থাপিত বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য।
আরও পড়ুন-আজ থেকেই ঢাকার রাস্তায় এআই ক্যামেরায় অটো মামলা ট্রাফিক আইন চালু
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









