প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য গণপরিবহন আরও সহজ ও সহনীয় করতে কাজ করছে সরকার বলে জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের বাস ও ট্রেনসহ বিভিন্ন গণপরিবহনে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে অথবা ভর্তুকিমূল্যে যাতায়াত সুবিধা চালুর বিষয়ে কাজ চলছে। একটি প্রতিবন্ধীবান্ধব রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আরও পড়ুন-ঢাকায় ২৫০ ইলেকট্রিক বাস আসছে যানজট ও দূষণ কমাতে বড় পরিকল্পনা
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সমাজের সব শ্রেণির মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যাতায়াত ব্যবস্থাকে সহজ না করলে শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকেও তারা অনেক সময় পিছিয়ে পড়েন। তাই গণপরিবহনে বিশেষ সহায়তা চালু করা সময়ের দাবি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পরিবহন ব্যবস্থায় বিশেষ ছাড় কিংবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াত সুবিধা রয়েছে। বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। এতে প্রতিবন্ধী নাগরিকরা স্বাভাবিক জীবনযাপনে আরও বেশি অংশ নিতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশে বর্তমানে লাখো মানুষ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। তবে এখনও দেশের অধিকাংশ গণপরিবহন পুরোপুরি প্রতিবন্ধীবান্ধব হয়ে উঠেনি। বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন কিংবা যানবাহনে ওঠানামার ক্ষেত্রেও নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তাদের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ভাড়া ছাড় নয়, পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়নও জরুরি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, গণপরিবহনে প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা আসন, সহজ প্রবেশ ব্যবস্থা, হুইলচেয়ার সুবিধা এবং স্টেশনগুলোতে সহায়ক সেবা বাড়ানো গেলে বাস্তব সুফল পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে চালক ও পরিবহন কর্মীদেরও সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিবন্ধী যাত্রীরা অবহেলা কিংবা অসহযোগিতার শিকার হন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য সমাজের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচল সহজ করতে পারলে তারা শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারবেন। এতে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন তিনি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী অধিকার নিয়ে সচেতনতা বাড়লেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখনও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে গণপরিবহনে বিশেষ ছাড় ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নিরাপদ চলাচল এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি বাস ও ট্রেনে ভর্তুকিমূল্যে বা বিনামূল্যে ভ্রমণ সুবিধা চালু করা যায়, তাহলে অনেক পরিবার অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবে। কারণ চিকিৎসা, শিক্ষা বা দৈনন্দিন কাজে যাতায়াতের জন্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অনেক সময় অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয়। সরকারি সহায়তা বাড়লে তাদের জীবনমান উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই উদ্যোগটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। কেউ কেউ বলছেন, শুধু ঘোষণা নয়, বাস্তব পদক্ষেপই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পরিবহন খাতে কার্যকর মনিটরিং এবং নীতিমালা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
পরিবহন বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে স্মার্ট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে দেশের গণপরিবহন আরও আধুনিক ও মানবিক হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য ও গণমাধ্যম সূত্র।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-জ্বালানি সংকটে স্কুলে ইলেকট্রিক বাস চালু অফিস সময় ৯টা–৪টা







