জ্বালানি সংকটে স্কুলে ইলেকট্রিক বাস চালু অফিস সময় ৯টা–৪টা

প্রকাশিত: 03-04-2026 11:58 AM
জ্বালানি সংকটে স্কুলে ইলেকট্রিক বাস চালু অফিস সময় ৯টা–৪টা

দেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় একাধিক কঠোর ও বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত হলো—স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে ইলেকট্রিক বাস চালু করা। এতে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি যানজট কমানোরও আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন-বাদ পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য শেষ সুযোগ রেজিস্ট্রেশনের সময় বাড়াল মাদ্রাসা বোর্ড

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাতে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের পরিবহনে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতে সরকার ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই ব্যবস্থায় যুক্ত হবে, তারা শুল্কমুক্তভাবে ইলেকট্রিক বাস আমদানির সুযোগ পাবে। এতে পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণও হ্রাস পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস অনলাইন না অফলাইন হবে—সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী রোববার নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামত বিবেচনা করা হচ্ছে।

জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময়সূচিও পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। একইভাবে ব্যাংকের কার্যক্রম চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত, তবে ব্যাংক বন্ধ হবে বিকেল ৪টায়।

এদিকে দেশের সব ধরনের শপিংমল ও মার্কেট সন্ধ্যা ৬টার পর বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কাঁচাবাজার, খাবারের দোকান ও ওষুধের দোকানের মতো জরুরি সেবাগুলো এই সিদ্ধান্তের আওতার বাইরে থাকবে।

সামাজিক অনুষ্ঠানেও আনা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বিয়ে বা অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা করা যাবে না। এতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সাশ্রয় সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার।

সরকারি ব্যয় কমাতে আগামী তিন মাসের জন্য বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নতুন কোনো যানবাহন, জলযান বা আকাশযান কেনা যাবে না। একইভাবে কম্পিউটারসহ নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয়ও বন্ধ রাখা হয়েছে।

এছাড়া অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে এবং সরকারি অর্থায়নে বিদেশে সব ধরনের প্রশিক্ষণ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। সভা-সেমিনারের ব্যয়ও অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে।

সরকার আরও জানিয়েছে, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে সরকারি ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানো হবে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ ব্যয়েও ৩০ শতাংশ কাটছাঁট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগ স্বল্পমেয়াদে কার্যকর হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

সব মিলিয়ে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের এই নতুন পদক্ষেপ দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন-এসএসসি পরীক্ষায় ৩১ নির্দেশনা নকল ঠেকাতে টয়লেট তল্লাশি বাধ্যতামূলক

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

আরও পড়ুন-প্রথমে কোন কোন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ফ্রি ওয়াইফাই চালুর নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী?

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

MD RIFAT SARKER

আসসালামু আলাইকুম, আমি মোঃ রিফাত সরকার। এই ওয়েবসাইটে আমি নিয়মিত বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করি এবং দরকারি তথ্য শেয়ার করার চেষ্টা করি। বিশেষ দ্রষ্টব্য: লেখায় যদি কোনো ভুল থাকে, দয়া করে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ধন্যবাদ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now