আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

কত টাকা বাড়তে পারে চাল-ডাল-তেল-ফলসহ খাদ্যপণ্যের দাম

প্রকাশিত: 14-05-2026 1:09 PM
দাম বাড়তে পারে চাল-ডাল-তেল-ফলসহ খাদ্যপণ্যের

দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম আবারও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে নতুন কর প্রস্তাবকে ঘিরে। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, ফল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুনসহ অন্তত ২৮টি কৃষি ও খাদ্যপণ্যের সরবরাহ পর্যায়ে উৎসে কর বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমান ০.৫০ শতাংশ উৎসে কর বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হতে পারে। অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বাজারে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ-টিসিবি পণ্যের তালিকা ও দাম ২০২৫–২০২৬ | TCB পণ্য বিক্রয় মূল্য ও সুবিধা

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে এই প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে এনবিআর। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, অর্থ সচিব, বাণিজ্য সচিব এবং এনবিআর চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে এটি নতুন বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

প্রস্তাবিত তালিকায় রয়েছে ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মসুর ডাল, ছোলা, ভোজ্যতেল, চিনি, আটা, ময়দা, ফল, লবণ, মসলা ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য। এছাড়া কাঁচা চা-পাতা, সরিষা, তিল, পাটজাত পণ্য এবং কিছু কৃষিভিত্তিক উপকরণও এই কর বৃদ্ধির আওতায় আসতে পারে।

অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ পর্যায়ে উৎসে কর বাড়ানো হলে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত ব্যয় শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে দেন। ফলে করের চাপ সরাসরি গিয়ে পড়ে সাধারণ ভোক্তার ওপর। বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতি এখনও উচ্চ পর্যায়ে থাকায় এই সিদ্ধান্ত বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বর্তমানে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের আশপাশে রয়েছে। এর মধ্যে চাল, ডাল, তেল, সবজি ও ফলের দাম আগেই তুলনামূলক বেশি। নতুন করহার কার্যকর হলে পণ্যের দামে কতটা প্রভাব পড়তে পারে, সেটি নিয়ে এখন আলোচনা চলছে বাজারে।

বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, করহার দ্বিগুণ হলে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি বস্তা চালে কয়েক টাকা থেকে কয়েক দশ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হতে পারে। একইভাবে ভোজ্যতেল, ডাল, ফল বা মসলাজাতীয় পণ্যের ক্ষেত্রেও পরিবহন, গুদাম ও সরবরাহ ব্যয়ের সঙ্গে নতুন কর যোগ হয়ে খুচরা বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।

একজন ব্যবসায়ী জানান, কর কেটে নেওয়া অর্থ ফেরত পাওয়া বাস্তবে অনেক কঠিন। ফলে ব্যবসায়ীরা এই করকে সরাসরি খরচ হিসেবেই ধরে নেন। আর সেই অতিরিক্ত ব্যয় শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর চাপানো হয়।

এনবিআর সূত্র বলছে, আগামী অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য আরও বড় হতে যাচ্ছে। কিন্তু আমদানি কমে যাওয়া, অর্থনৈতিক চাপ এবং সীমিত করজালের কারণে প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। তাই বিদ্যমান করদাতাদের ওপর করের চাপ বাড়িয়ে অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহের চিন্তা করা হচ্ছে।

একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরবরাহ পর্যায়ে কর সঠিকভাবে আদায় নিশ্চিত করা গেলে শুধু এই খাত থেকেই বছরে ৫০০ কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত রাজস্ব পাওয়া সম্ভব।

তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ বলছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ স্বল্পমেয়াদে রাজস্ব বাড়ালেও দীর্ঘমেয়াদে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎসে কর মূলত এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে কোনো করপোরেট প্রতিষ্ঠান সরবরাহকারীর বিল পরিশোধের সময় নির্ধারিত হারে কর কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়। বড় সুপারশপ, খাদ্য ও পানীয় কোম্পানি, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং ওষুধ শিল্পের মতো বড় ক্রেতারা এই ব্যবস্থার আওতায় পড়ে।

মজার বিষয় হলো, বর্তমান এনবিআর চেয়ারম্যান কয়েক বছর আগেই কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যকে উৎসে করের আওতার বাইরে রাখার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন রাজস্ব ঘাটতির কারণে আবারও কর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু নিত্যপণ্য নয়, আসন্ন বাজেটে আরও কয়েকটি খাতে কর ও ভ্যাট বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রসাধনী, কোমল পানীয়, ফলের রস, আইসক্রিম, ই-সিগারেট এবং কিছু বিলাসপণ্যে বাড়তি কর আরোপের চিন্তা।

এদিকে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বলছে, বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে নিত্যপণ্যে নতুন কর না বাড়িয়ে করজাল সম্প্রসারণ ও কর ফাঁকি রোধে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—একদিকে রাজস্ব বাড়ানো, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। কিন্তু নিত্যপণ্যে কর বাড়ানো হলে এই দুই লক্ষ্য একসঙ্গে অর্জন করা কঠিন হয়ে যেতে পারে।

এখন শেষ পর্যন্ত সরকার নতুন বাজেটে কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং প্রস্তাবিত করহার কার্যকর হয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়।

সূত্র: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাজেট সংশ্লিষ্ট তথ্য, অর্থনীতি ও বাজার বিশ্লেষকদের মতামত।

আরও পড়ুনঃ- অনলাইনে টিকিট কাটার অ্যাপস | বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও বিমান টিকিট বুকিং সহজ উপায়

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে– ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে আমি 'টেক বাংলা নিউজ' (ssitbari.com)-এ নিয়মিত বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক ও আপডেটেড কনটেন্ট প্রকাশ করি। প্রযুক্তি, মোবাইল, গ্যাজেটসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় সহজ ও বোধগম্য ভাষায় পাঠকদের কাছে তুলে ধরা আমার লক্ষ্য। নির্ভরযোগ্য তথ্য, বিশ্লেষণ ও উপকারী টিপসের মাধ্যমে পাঠকদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now