ই-ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় আবারও বাড়ালো এনবিআর

প্রকাশিত: 08-06-2026 12:33 AM
ই-ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় আবারও বাড়ালো এনবিআর

দেশের ভ্যাট ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যেতে চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আবারও সময় বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ই-ভ্যাট সিস্টেমে কাগজভিত্তিক ভ্যাট রিটার্ন অন্তর্ভুক্ত করার নির্ধারিত সময়সীমা আরও তিন মাস বাড়িয়ে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন-স্বর্ণ কিনতে বাড়তে পারে খরচ, জুয়েলারি খাতে আসছে নতুন ভ্যাট ব্যবস্থা

এনবিআরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগে হার্ড কপিতে জমা দেওয়া মাসিক ভ্যাট রিটার্নসমূহ ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্ত করার সুবিধার্থে ই-ভ্যাট ব্যবস্থায় ‘হার্ড কপি রিটার্ন এন্ট্রি’ নামে একটি নতুন সাব-মডিউল চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পূর্বে জমা দেওয়া কাগজভিত্তিক রিটার্নগুলো ধাপে ধাপে অনলাইন সিস্টেমে যুক্ত করা হচ্ছে।

রাজস্ব বোর্ড জানায়, এই সাব-মডিউল ব্যবহারের পদ্ধতি নির্ধারণ করে গত ৫ জানুয়ারি একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছিল। তখন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের পূর্ববর্তী হার্ড কপি রিটার্নসমূহ অনলাইন সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়।

তবে ই-ভ্যাট প্ল্যাটফর্মের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কাগজভিত্তিক ভ্যাট রিটার্ন অনলাইন সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেনি।

এ অবস্থায় আগামী জুলাই মাস থেকে অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও প্রস্তুতির সুযোগ দিতে সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত তাদের পুরোনো কাগজভিত্তিক রিটার্ন ই-ভ্যাট সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।

তবে সময় বাড়ানো হলেও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সতর্কবার্তাও দিয়েছে এনবিআর। রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, সংশোধিত সময়সীমার মধ্যেও যারা তাদের কাগজভিত্তিক ভ্যাট রিটার্নগুলো ই-ভ্যাট প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্ত করতে ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য আপলোড না করলে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমাপনী স্থিতি বা ক্লোজিং ব্যালেন্স স্থগিত (ফ্রিজ) করে দেওয়া হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ওই স্থিতির বিপরীতে কোনো ধরনের সমন্বয় বা হিসাব সংশোধনের সুযোগ থাকবে না।

এছাড়া ভ্যাট ফেরত বা রিফান্ড পাওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আরোপ করেছে এনবিআর। রাজস্ব বোর্ডের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের রিফান্ড আবেদন নিষ্পত্তি করতে হলে সংশ্লিষ্ট সব ভ্যাট রিটার্ন অনলাইন সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক। ফলে যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তাদের পূর্ববর্তী সব রিটার্ন ই-ভ্যাট প্ল্যাটফর্মে আপলোড করবে না, তারা ভ্যাট রিফান্ডের জন্য আবেদন করতে পারবে না।

রাজস্ব প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং প্রযুক্তিনির্ভর করার অংশ হিসেবে ই-ভ্যাট কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এতে করদাতাদের তথ্য সংরক্ষণ, রিটার্ন যাচাই এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

এনবিআর মনে করছে, সব ভ্যাট রিটার্নকে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং করদাতারাও দ্রুত সেবা পাবেন। এজন্য চলমান ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রমে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি।

আগামী জুলাই থেকে অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হওয়ার আগে এটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য শেষ বড় সুযোগ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় তথ্য ই-ভ্যাট সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: এনবিআর বিজ্ঞপ্তি

আরও পড়ুন-নতুন বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর আগাম আয়কর আরোপ করা হচ্ছে না

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে আমি 'টেক বাংলা নিউজ' (ssitbari.com)-এ নিয়মিত বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক ও আপডেটেড কনটেন্ট প্রকাশ করি। প্রযুক্তি, মোবাইল, গ্যাজেটসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় সহজ ও বোধগম্য ভাষায় পাঠকদের কাছে তুলে ধরা আমার লক্ষ্য। নির্ভরযোগ্য তথ্য, বিশ্লেষণ ও উপকারী টিপসের মাধ্যমে পাঠকদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now